1:36 pm, Saturday, 12 September 2026

ভান্ডারিয়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ”” নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাকে দলীয় কোন্দল হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ, ৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের দাবি

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এইচ এম শামীম হাওলাদারকে ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক অনিয়ম ও চাঁদা আদায়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীরা।অভিযোগকারীদের দাবি, শামীম হাওলাদারকে ঘিরে উপজেলা যুবদলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বিরোধ ও অসন্তোষ রয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগকে দলীয় কোন্দল হিসেবে উপস্থাপন করে বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাকে ঘিরে প্রশ্ন,স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিষয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলাটিকে পরবর্তীতে দলীয় কোন্দলের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।তবে মামলার প্রকৃত ধারা, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের অবস্থান যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।৬৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘মেসার্স কায়েদ বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘এস এস বিল্ডার্স’ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ শামীম হাওলাদারের হাতে রয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়ির রং ও বাহ্যিক পরিবর্তন করে নতুনভাবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, ট্রেড লাইসেন্স, প্রকল্পের কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ,স্থানীয়দের অভিযোগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন এমপির নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বা তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।জেলা পরিষদের মার্কেট নিয়েও অভিযোগ
ভান্ডারিয়া জেলা পরিষদ মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ও জায়গা নিয়েও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন দোকানের জায়গা দখল ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট নথি, বরাদ্দপত্র ও দোকান মালিকদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।প্রায় ৩ লাখ টাকার পণ্য কেনার অভিযোগ,অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ভান্ডারিয়া বাজারের ‘তালুকদার ইলেকট্রনিক্স’ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী কেনা হয়েছে এবং এগুলো বরিশালে নতুন বাসায় নেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় রশিদ, পেমেন্টের তথ্য ও পণ্য পরিবহনের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের দাবি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি,স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমেই তা পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।তারা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার নথি, ‘এস এস বিল্ডার্স’-এর মালিকানা ও প্রকল্পসংক্রান্ত কাগজপত্র, জেলা পরিষদ মার্কেটের বরাদ্দ নথি এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

ভান্ডারিয়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ”” নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাকে দলীয় কোন্দল হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ, ৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের দাবি

Update Time : 12:00:21 pm, Monday, 7 September 2026

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এইচ এম শামীম হাওলাদারকে ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক অনিয়ম ও চাঁদা আদায়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীরা।অভিযোগকারীদের দাবি, শামীম হাওলাদারকে ঘিরে উপজেলা যুবদলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বিরোধ ও অসন্তোষ রয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগকে দলীয় কোন্দল হিসেবে উপস্থাপন করে বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাকে ঘিরে প্রশ্ন,স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিষয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলাটিকে পরবর্তীতে দলীয় কোন্দলের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।তবে মামলার প্রকৃত ধারা, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের অবস্থান যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।৬৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘মেসার্স কায়েদ বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘এস এস বিল্ডার্স’ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ শামীম হাওলাদারের হাতে রয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়ির রং ও বাহ্যিক পরিবর্তন করে নতুনভাবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, ট্রেড লাইসেন্স, প্রকল্পের কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ,স্থানীয়দের অভিযোগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন এমপির নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বা তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।জেলা পরিষদের মার্কেট নিয়েও অভিযোগ
ভান্ডারিয়া জেলা পরিষদ মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ও জায়গা নিয়েও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন দোকানের জায়গা দখল ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট নথি, বরাদ্দপত্র ও দোকান মালিকদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।প্রায় ৩ লাখ টাকার পণ্য কেনার অভিযোগ,অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ভান্ডারিয়া বাজারের ‘তালুকদার ইলেকট্রনিক্স’ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী কেনা হয়েছে এবং এগুলো বরিশালে নতুন বাসায় নেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় রশিদ, পেমেন্টের তথ্য ও পণ্য পরিবহনের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের দাবি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি,স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমেই তা পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।তারা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার নথি, ‘এস এস বিল্ডার্স’-এর মালিকানা ও প্রকল্পসংক্রান্ত কাগজপত্র, জেলা পরিষদ মার্কেটের বরাদ্দ নথি এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।