
৫৪ মামলার তথ্য, ৪৯টিতে পরোয়ানার দাবি; মোট দায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা—এমডি নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন
সম্পদ সুরক্ষা, পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি ও বিদেশযাত্রার অভিযোগ; গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করে অভিযোগ আড়ালের চেষ্টার দাবিও
১৯৯৬ সালে প্রায় একই সময়ে যাত্রা শুরু করেছিল মেঘনা লাইফ ও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে একটি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও বিনিয়োগ সক্ষমতা গড়ে তুললেও হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, ব্যবস্থাপনা সংকট, গ্রাহকের পাওনা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর গ্রেপ্তারের ঘটনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রোববার মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হোসাইন মোহাম্মদ ফারাবীর নেতৃত্বে ডিবির একটি দল হোমল্যান্ড লাইফের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তার গ্রেপ্তারের পর হোমল্যান্ড লাইফের আর্থিক অবস্থা, গ্রাহকের পাওনা, কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, ব্যবস্থাপনার বৈধতা এবং পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
৫৪ মামলার তথ্য, ৪৯টিতে পরোয়ানার দাবি
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গোল্ডেন লাইফ ও অন্য একটি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে মোট ৫৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তথ্য পাওয়া গেছে বলেও সূত্রটি দাবি করছে।
তবে এসব মামলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, কোন মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন এবং কোন মামলায় কার্যকর পরোয়ানা রয়েছে—এসব তথ্য আদালত ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অতীতে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট ও গ্রাহকদের দাবি-দাওয়া নিয়েও তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
হোমল্যান্ড লাইফে এমডি নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন
হোমল্যান্ড লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর নিয়োগ নিয়েও শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
কোম্পানির নথি অনুযায়ী, ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মানবসম্পদ বিভাগের শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আমজাদ হোসেনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে—একজন জীবনবীমা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী নিয়োগের আগে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ইতিহাস, চলমান মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না।
বিশেষ করে একজন প্রস্তাবিত এমডির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য থাকলে নিয়োগের আগে যথাযথ ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না, সেটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪১ কোটি টাকার এফডিআর কোথায়, কী অবস্থায়?
হোমল্যান্ড লাইফের বর্তমান সংকটের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো কোম্পানির প্রায় ৪১ কোটি টাকার এফডিআর নিয়ে।
সংশ্লিষ্ট নথি ও সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট দায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকদের পাওনা প্রায় ২০০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ২০২৫/২৬ হিসাব অনুযায়ী সরকারের কর পাওনা প্রায় ১৩০ কোটি টাকা বলেও সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৪১ কোটি টাকার এফডিআর কোম্পানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্পদ।
তাই জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন—
এফডিআরটি কোন ব্যাংকে রয়েছে?
কোন তারিখে এবং কার অনুমোদনে এটি খোলা হয়েছিল?
বর্তমানে এফডিআরের প্রকৃত স্থিতি কত?
এর বিপরীতে কোনো ঋণ, লিয়েন, চার্জ বা জামানত রয়েছে কি না?
এফডিআরের মেয়াদ কবে শেষ হচ্ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে এটি ভাঙানো, স্থানান্তর, বন্ধক বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না?
এফডিআরটির প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
গ্রাহকদের যেখানে শত কোটি টাকা পাওনা, সেখানে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্পদ নিয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা থাকলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তাৎক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করছেন কি না, বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি আছে কি না—তদন্ত দাবি
সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এর আগে অভিযোগ করা হয়েছিল, গ্রাহকের পাওনা ও কোম্পানির অন্যান্য দায় নিষ্পত্তির আগেই কয়েকজন পরিচালক শেয়ার বিক্রি করে নিজেদের দায়মুক্ত করার চেষ্টা করছেন।
একই সঙ্গে দেশে থাকা কয়েকজন পরিচালকের বিদেশে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোম্পানির আর্থিক সংকটের মধ্যে কোনো পরিচালক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি কোম্পানির দায় নিষ্পত্তির আগে নিজেদের শেয়ার বা সম্পদ সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে সেই লেনদেনের বৈধতা ও উদ্দেশ্য যাচাই করা জরুরি।
একইভাবে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি কোম্পানির দায় এড়িয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন কি না, সেটিও আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন।
একের পর এক এমডি, কিন্তু কাটেনি সংকট
হোমল্যান্ড লাইফের ব্যবস্থাপনা সংকট নতুন নয়। সংশ্লিষ্ট নথি ও সূত্রের দাবি, সাবেক এমডি বিশ্বজিৎ কুমার মণ্ডল আইডিআরের বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মালিকপক্ষের অসহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তিনি কাঙ্ক্ষিতভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর আব্দুল মতিনকে এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সার্টিফিকেট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং সার্টিফিকেট-সংক্রান্ত মামলার বিষয়ও আলোচনায় আসে।
পরবর্তীতে আসলাম রেজাকে এমডি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এরপর বীমা খাতের কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি আইডিআরের বিধিবিধানের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি না হওয়ায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এসব ঘটনা হোমল্যান্ড লাইফের ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়িয়েছে।
‘বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে’
হোমল্যান্ড লাইফের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শাহাদাত হোসেনের অভিযোগও গুরুতর।
তার দাবি, বোর্ডের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাকে বেতন-ভাতা ও কমিশন দেওয়া হয়নি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তাকে বাদ দিয়ে আমজাদ হোসেনকে নতুন এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে এ বক্তব্যের আইনগত ভিত্তি, নিয়োগের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের মামলার বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এমডি গ্রেপ্তারের পর কোম্পানি পরিচালনা করবেন কে?
আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় হোমল্যান্ড লাইফের ব্যবস্থাপনা সংকট আরও গভীর হয়েছে।
একটি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী আইনগত কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এখন কোম্পানির দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম কে পরিচালনা করবেন?
গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তি কীভাবে হবে? কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং কোম্পানির ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের সিদ্ধান্ত কে নেবেন? গুরুত্বপূর্ণ নথি, হিসাব, ব্যাংক হিসাব এবং কোম্পানির সম্পদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—গ্রাহকদের প্রায় ২০০ কোটি টাকার পাওনা কীভাবে নিরাপদ থাকবে?
অভিযোগ আড়াল করতে গণমাধ্যম প্রভাবিত করার চেষ্টা?
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগকে আড়াল করতে কিছু গণমাধ্যমকর্মীকে প্রভাবিত বা ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্রটির আরও দাবি, একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার অভিযোগের মধ্যেও কয়েকজন ব্যক্তি গণমাধ্যমে আমজাদ হোসেনের পক্ষে সাফাই গাইছেন এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।
তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক বা প্রতিষ্ঠানের নাম, যোগাযোগের ধরন, আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে গণমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পক্ষে বক্তব্য প্রকাশ করা নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। তাই এ বিষয়ে তদন্ত হলে প্রমাণনির্ভর ও নিরপেক্ষ তদন্তই হওয়া প্রয়োজন।
আইডিআরের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
হোমল্যান্ড লাইফের বর্তমান পরিস্থিতিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) জরুরি ভিত্তিতে কোম্পানিটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে—
১. কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন আর্থিক অডিট করা।
২. মোট সম্পদ, দায় ও গ্রাহকের পাওনার হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা।
৩. প্রায় ৪১ কোটি টাকার এফডিআরসহ সব ব্যাংক হিসাব যাচাই করা।
৪. এফডিআরের ওপর কোনো ঋণ, লিয়েন, চার্জ বা বন্ধক রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা।
৫. সাম্প্রতিক শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রির তথ্য যাচাই করা।
৬. পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কোম্পানির আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা।
৭. আমজাদ হোসেনের এমডি নিয়োগের আইনগত ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন যাচাই করা।
৮. তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার প্রকৃত সংখ্যা, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং কার্যকর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না তা সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশের নথির মাধ্যমে যাচাই করা।
৯. কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা বন্ধক রাখার কোনো উদ্যোগ হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা।
১০. কোনো পরিচালক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি কোম্পানির দায় এড়িয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন কি না, তা আইন অনুযায়ী যাচাই করা।
১১. কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ নথি, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১২. সর্বোপরি, গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
প্রশ্ন এখন একটাই—আগে পরিচালক, নাকি আগে গ্রাহক?
হোমল্যান্ড লাইফের সংকটকে আর কেবল একটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ মালিকানা বা ব্যবস্থাপনা বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এখানে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার গ্রাহকের জীবনভর সঞ্চয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ এবং বাংলাদেশের জীবনবীমা খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা।
আমজাদ হোসেন খান চৌধুরীর গ্রেপ্তার চলমান সংকটের একটি নতুন অধ্যায় মাত্র। কিন্তু এর পর সামনে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন—
কোম্পানির সম্পদ নিরাপদ আছে তো?
প্রায় ৪১ কোটি টাকার এফডিআর নিরাপদ তো?
গ্রাহকদের প্রায় ২০০ কোটি টাকার পাওনা কীভাবে পরিশোধ হবে?
প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মোট দায়ের প্রকৃত অবস্থা কী?
আর গ্রাহকের পাওনা নিশ্চিত হওয়ার আগে কেউ যদি কোম্পানির সম্পদ, শেয়ার বা দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে নিয়ন্ত্রক ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে?
হোমল্যান্ড লাইফের বর্তমান পরিস্থিতিতে সময়ক্ষেপণের সুযোগ খুবই কম। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদেরও তা পরিষ্কার করার সুযোগ দিতে হবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত হোমল্যান্ড লাইফের মালিকানা বা পরিচালনা নিয়ে বিরোধের চেয়েও বড় বিষয় হলো—গ্রাহকের টাকা।
এখন প্রয়োজন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত। কোম্পানির সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, শেয়ার লেনদেন, পরিচালকদের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা, এমডি নিয়োগের বৈধতা এবং চলমান মামলাগুলোর প্রকৃত অবস্থা একসঙ্গে যাচাই করা জরুরি।
আজ গ্রাহকের স্বার্থে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামীকাল পরিস্থিতি আরও জটিল হলে শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করে সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হবে কি না—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
হোমল্যান্ড লাইফে এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন—কার স্বার্থ আগে: পরিচালকদের, নাকি গ্রাহকদের?
শারমিন আক্তার 






















