1:36 pm, Saturday, 12 September 2026

ভান্ডারিয়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এইচ এম শামীম হাওলাদারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক অনিয়ম এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা।অভিযোগকারীদের দাবি, বিএনপি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় শামীম হাওলাদারের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচির তথ্য ফাঁসসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও তার স্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘মেসার্স কায়েদ বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘এস এস বিল্ডার্স’ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ শামীম হাওলাদারের হাতে রয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির পূর্বের অফিস, যানবাহন ও জনবল ব্যবহার করেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, প্রকৃত ঠিকাদার, প্রকল্পের বরাদ্দ, কার্যাদেশ এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন এমপির নাম ভাঙিয়ে ভান্ডারিয়া পৌরসভা, বিভিন্ন মহল্লা, ভান্ডারিয়া বাজার, হাট-বাজার, সার্কাসসহ বিভিন্ন স্থান এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।অভিযোগকারীদের দাবি, এ কাজে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ আদায়ের কারণে স্থানীয়ভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে।
তবে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমনের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদা তুলছেন কি না—এ বিষয়ে তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগটি সত্য হলে তা ব্যক্তিগতভাবে যেমন অপরাধের বিষয় হতে পারে, তেমনি রাজনৈতিক সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও অভিযোগ শামীম হাওলাদারের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন এবং সেই অর্থ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। ঢাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কথিত ঝটিকা মিছিলের অর্থায়ন এবং আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগের পক্ষে কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হলেও ছবিগুলোর সত্যতা, সময় ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সরকারি হাট-বাজার ও খেয়াঘাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আড়ালে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংগঠিত করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি,অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়গুলো নিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও দলীয় পর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও দলীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় যেন কোনোভাবেই দলের ওপর না পড়ে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদা আদায় করলে সেটি দ্রুত তদন্ত করে বন্ধ করা প্রয়োজন।
শামীম হাওলাদারের বক্তব্য এসব অভিযোগের বিষয়ে এইচ এম শামীম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

ভান্ডারিয়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

Update Time : 04:42:03 pm, Sunday, 6 September 2026

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এইচ এম শামীম হাওলাদারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক অনিয়ম এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা।অভিযোগকারীদের দাবি, বিএনপি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় শামীম হাওলাদারের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচির তথ্য ফাঁসসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও তার স্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘মেসার্স কায়েদ বিল্ডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘এস এস বিল্ডার্স’ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ শামীম হাওলাদারের হাতে রয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির পূর্বের অফিস, যানবাহন ও জনবল ব্যবহার করেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, প্রকৃত ঠিকাদার, প্রকল্পের বরাদ্দ, কার্যাদেশ এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন এমপির নাম ভাঙিয়ে ভান্ডারিয়া পৌরসভা, বিভিন্ন মহল্লা, ভান্ডারিয়া বাজার, হাট-বাজার, সার্কাসসহ বিভিন্ন স্থান এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।অভিযোগকারীদের দাবি, এ কাজে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ আদায়ের কারণে স্থানীয়ভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে।
তবে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমনের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদা তুলছেন কি না—এ বিষয়ে তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগটি সত্য হলে তা ব্যক্তিগতভাবে যেমন অপরাধের বিষয় হতে পারে, তেমনি রাজনৈতিক সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও অভিযোগ শামীম হাওলাদারের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন এবং সেই অর্থ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। ঢাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কথিত ঝটিকা মিছিলের অর্থায়ন এবং আত্মগোপনে থাকা কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অভিযোগের পক্ষে কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হলেও ছবিগুলোর সত্যতা, সময় ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সরকারি হাট-বাজার ও খেয়াঘাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আড়ালে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংগঠিত করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি,অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়গুলো নিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও দলীয় পর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও দলীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় যেন কোনোভাবেই দলের ওপর না পড়ে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদা আদায় করলে সেটি দ্রুত তদন্ত করে বন্ধ করা প্রয়োজন।
শামীম হাওলাদারের বক্তব্য এসব অভিযোগের বিষয়ে এইচ এম শামীম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি