12:37 pm, Saturday, 12 September 2026

ভান্ডারিয়ায় প্রবাসীর পৈতৃক ভিটা দখল ও হামলার অভিযোগ একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি, সঠিক তদন্তের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের

169

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা এলাকায় পৈতৃক ভিটা দখল, বসতঘর নির্মাণে বাধা, হামলা, ভাঙচুর, ক্যামেরা খুলে নেওয়া এবং একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের কারণে সৌদি আরবে কর্মরত এক প্রবাসী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ হুমায়ন কবির।
ভুক্তভোগী হুমায়ন কবির নদমূলা গ্রামের মৃত আলী আহম্মেদ গাজীর ছেলে। তিনি জানান, ২০০৮ সাল থেকে সৌদি আরবে একটি কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। ২০১৫ সালে ছুটিতে দেশে এসে নিজের পৈতৃক ভিটায় একটি পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। আংশিক নির্মাণ শেষে তিনি পুনরায় সৌদি আরব চলে গেলে তার স্ত্রী বাকি অংশের কাজ শেষ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন।
হুমায়ন কবিরের অভিযোগ, পরবর্তীতে তার বাড়ির ওয়ারিশদের মধ্যে মোঃ আবু ছালাম গাজী, লোকমান গাজী ও জাহানারা বেগমসহ কয়েকজন তার বসতঘরের সামনে টিনের ঘর নির্মাণ করেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাদের স্বজনরা এগিয়ে এলে তারাও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রায় শতাধিক লোক নিয়ে হুমায়ন কবিরের বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এ সময় পুলিশকে ফোন করা হলেও তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। বরং তার আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, সর্বশেষ ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের দিনও তার বসতঘরের সামনে নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তার বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নেওয়া, রাস্তার ইট সরিয়ে নেওয়া এবং বাড়ির প্রবেশপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগও করেছেন তিনি।
হুমায়ন কবির বলেন, বর্তমানে তার বাড়িটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অভিযুক্তদের ভয়ে তার স্ত্রী-সন্তানরা সেখানে যেতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে বাড়ির আশপাশে পাহারা দেওয়া হয় এবং স্ত্রী-সন্তানদের পেলে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ করে হুমায়ন কবির জানান, কিছুদিন আগে তার স্ত্রীকে মারধর করা হয় এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথায় ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া তার শ্বশুরকেও একাধিকবার মারধরের অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, বিরোধের জেরে তার ও তার আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত না করেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এসব মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে ইতোমধ্যে তার ৫০ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন।
যেসব মামলা ও অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী
হুমায়ন কবিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে কুলসুম, সাথী আক্তার, মেহেদী, আব্দুল সালাম গাজী, লাকি বেগম, জাহানুর বেগম, ইলিয়াস, হাসিনা বেগম, কালাম সরদার ও জামাল বয়াতিসহ কয়েকজনের নামে/বাদীতে বিভিন্ন জিআর, সিআর, এমপি মামলা ও জিডির উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে জিআর নং ১৪২/২৫, ১৭৭/২৫, ১৬৩/২৫, ১৩৭/২৫, ২২১/২৫, সিআর ৫৯/২০১৬, জিআর ১৬৫/২০, নন-জিআর ৭১/২২ এবং অন্যান্য মামলার তথ্য তিনি দিয়েছেন।
তবে এসব মামলার প্রকৃত বিষয়বস্তু, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের আদেশ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাব ও অর্থের কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলা ও দখলের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
হুমায়ন কবির বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করছি। অথচ নিজের পৈতৃক ভিটায় স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপদে রাখতে পারছি না। আমরা কোনো পক্ষপাত চাই না, সঠিক তদন্ত ও আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

ভান্ডারিয়ায় প্রবাসীর পৈতৃক ভিটা দখল ও হামলার অভিযোগ একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি, সঠিক তদন্তের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের

Update Time : 03:44:35 pm, Sunday, 6 September 2026
169

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা এলাকায় পৈতৃক ভিটা দখল, বসতঘর নির্মাণে বাধা, হামলা, ভাঙচুর, ক্যামেরা খুলে নেওয়া এবং একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের কারণে সৌদি আরবে কর্মরত এক প্রবাসী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ হুমায়ন কবির।
ভুক্তভোগী হুমায়ন কবির নদমূলা গ্রামের মৃত আলী আহম্মেদ গাজীর ছেলে। তিনি জানান, ২০০৮ সাল থেকে সৌদি আরবে একটি কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। ২০১৫ সালে ছুটিতে দেশে এসে নিজের পৈতৃক ভিটায় একটি পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। আংশিক নির্মাণ শেষে তিনি পুনরায় সৌদি আরব চলে গেলে তার স্ত্রী বাকি অংশের কাজ শেষ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন।
হুমায়ন কবিরের অভিযোগ, পরবর্তীতে তার বাড়ির ওয়ারিশদের মধ্যে মোঃ আবু ছালাম গাজী, লোকমান গাজী ও জাহানারা বেগমসহ কয়েকজন তার বসতঘরের সামনে টিনের ঘর নির্মাণ করেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাদের স্বজনরা এগিয়ে এলে তারাও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রায় শতাধিক লোক নিয়ে হুমায়ন কবিরের বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এ সময় পুলিশকে ফোন করা হলেও তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। বরং তার আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, সর্বশেষ ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের দিনও তার বসতঘরের সামনে নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তার বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নেওয়া, রাস্তার ইট সরিয়ে নেওয়া এবং বাড়ির প্রবেশপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগও করেছেন তিনি।
হুমায়ন কবির বলেন, বর্তমানে তার বাড়িটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অভিযুক্তদের ভয়ে তার স্ত্রী-সন্তানরা সেখানে যেতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে বাড়ির আশপাশে পাহারা দেওয়া হয় এবং স্ত্রী-সন্তানদের পেলে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ করে হুমায়ন কবির জানান, কিছুদিন আগে তার স্ত্রীকে মারধর করা হয় এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথায় ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া তার শ্বশুরকেও একাধিকবার মারধরের অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, বিরোধের জেরে তার ও তার আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত না করেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এসব মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে ইতোমধ্যে তার ৫০ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন।
যেসব মামলা ও অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী
হুমায়ন কবিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে কুলসুম, সাথী আক্তার, মেহেদী, আব্দুল সালাম গাজী, লাকি বেগম, জাহানুর বেগম, ইলিয়াস, হাসিনা বেগম, কালাম সরদার ও জামাল বয়াতিসহ কয়েকজনের নামে/বাদীতে বিভিন্ন জিআর, সিআর, এমপি মামলা ও জিডির উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে জিআর নং ১৪২/২৫, ১৭৭/২৫, ১৬৩/২৫, ১৩৭/২৫, ২২১/২৫, সিআর ৫৯/২০১৬, জিআর ১৬৫/২০, নন-জিআর ৭১/২২ এবং অন্যান্য মামলার তথ্য তিনি দিয়েছেন।
তবে এসব মামলার প্রকৃত বিষয়বস্তু, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের আদেশ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাব ও অর্থের কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলা ও দখলের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
হুমায়ন কবির বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করছি। অথচ নিজের পৈতৃক ভিটায় স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপদে রাখতে পারছি না। আমরা কোনো পক্ষপাত চাই না, সঠিক তদন্ত ও আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।”