12:16 pm, Monday, 24 August 2026

চায়না দুয়ারী’ রিং জালের ছড়াছড়ি, অস্তিত্ব সংকটে দেশীয় মাছ,অবশেষে অভিযান পরিচালনা করে জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন খালে ‘চায়না দুয়ারী’ বা রিং নামক বিশেষ এক ধরনের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন স্থানীয়রা। এতে দিনে দিনে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছ।

সোমবার (১৭ আগষ্ট) সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউপির ফতেজঙ্গপুর ও আবাদপুর বিল নামক স্থানে এই দৃশ্য দেখা গেছে। ছোট খালগুলোতে এসব অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার হচ্ছে অবাধে।
খুব সহজে বেশি মাছ ধরার এই ফাঁদ ব্যবহারে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির মাছ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব ধরনের দেশীয় প্রজাতির মাছ এ জালের ফাঁদে ধরা পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন বেশি হওয়ায় এ জালের উৎপাত থাকে বেশি। দেশীয় প্রজাতির ছোট বড় বিভিন্ন মাছ চায়না দুয়ারী (রিং) নামক জালে নিধন হচ্ছে। এতে ক্রমেই মাছশূন্য হয়ে উপকূলের খাল-বিল। স্থানীয় জেলেরা জানান, চায়না দুয়ারী জালে খালের সব ধরনের মাছ ছেঁকে ওঠে। এসব জাল বন্ধ না হলে মাছ সংকটে পড়বে স্থানীয় জেলেরা।
এমন পরিস্থিতিতে আজ বুধবার (১৯ আগষ্ট) উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্বেগে আবাদপুর বিল ও ফতেজঙ্গপুরের বিভিন্ন মাঠ হতে প্রায় ২৫-৩০ টি চায়না দুয়ারি (রিং) জাল নিয়ে এসে পুড়িয়ে ধ্বংস করার মাধ্যমে মৎস্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান ছনি,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায়,মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ,থানা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মী গণ।

বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় বলেন, আমাদের মৎস্য অধিদপ্তরের সুরক্ষা আইন ১৫০ এর ধারায় জালটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জাল আমাদের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

তিনি আরও বলেন, এর আগে আমরা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছি। এই জালের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নিয়ে যেতে আমরা মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, চায়না দুয়ারী জাল বন্ধে আমরা একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছি। এ জাল বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

চায়না দুয়ারী’ রিং জালের ছড়াছড়ি, অস্তিত্ব সংকটে দেশীয় মাছ,অবশেষে অভিযান পরিচালনা করে জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

Update Time : 12:18:56 am, Thursday, 20 August 2026

বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন খালে ‘চায়না দুয়ারী’ বা রিং নামক বিশেষ এক ধরনের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন স্থানীয়রা। এতে দিনে দিনে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছ।

সোমবার (১৭ আগষ্ট) সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউপির ফতেজঙ্গপুর ও আবাদপুর বিল নামক স্থানে এই দৃশ্য দেখা গেছে। ছোট খালগুলোতে এসব অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার হচ্ছে অবাধে।
খুব সহজে বেশি মাছ ধরার এই ফাঁদ ব্যবহারে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির মাছ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব ধরনের দেশীয় প্রজাতির মাছ এ জালের ফাঁদে ধরা পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন বেশি হওয়ায় এ জালের উৎপাত থাকে বেশি। দেশীয় প্রজাতির ছোট বড় বিভিন্ন মাছ চায়না দুয়ারী (রিং) নামক জালে নিধন হচ্ছে। এতে ক্রমেই মাছশূন্য হয়ে উপকূলের খাল-বিল। স্থানীয় জেলেরা জানান, চায়না দুয়ারী জালে খালের সব ধরনের মাছ ছেঁকে ওঠে। এসব জাল বন্ধ না হলে মাছ সংকটে পড়বে স্থানীয় জেলেরা।
এমন পরিস্থিতিতে আজ বুধবার (১৯ আগষ্ট) উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্বেগে আবাদপুর বিল ও ফতেজঙ্গপুরের বিভিন্ন মাঠ হতে প্রায় ২৫-৩০ টি চায়না দুয়ারি (রিং) জাল নিয়ে এসে পুড়িয়ে ধ্বংস করার মাধ্যমে মৎস্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান ছনি,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায়,মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ,থানা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মী গণ।

বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় বলেন, আমাদের মৎস্য অধিদপ্তরের সুরক্ষা আইন ১৫০ এর ধারায় জালটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জাল আমাদের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

তিনি আরও বলেন, এর আগে আমরা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছি। এই জালের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নিয়ে যেতে আমরা মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, চায়না দুয়ারী জাল বন্ধে আমরা একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছি। এ জাল বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।