9:49 am, Monday, 24 August 2026

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা ইকরা ট্রাভেলসের কর্ণধার ইমরান মাহমুদ

‎বিদেশে চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, ভিসা প্রসেসিং, হজ-ওমরাহ প্যাকেজ ও ট্রাভেল সেবার আকর্ষণীয় অফার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘ইকরা ট্রাভেলস’-এর কর্ণধার ইমরান মাহমুদের বিরুদ্ধে।

‎ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর বর্তমানে ইমরান মাহমুদ আত্মগোপনে রয়েছেন। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মানুষ এ ঘটনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎ ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, প্রথমদিকে কয়েকজনকে বিদেশে পাঠানো এবং বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে ইমরান মাহমুদ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেন। পরে সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ।

‎ বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন, কেউ জমি বিক্রি করেছেন, আবার কেউ স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছেন বলে জানান।

‎এ ঘটনায় এক সাংবাদিকের কাছ থেকেও বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ভিসা বা বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুরুতে ইমরান মাহমুদ নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও পরবর্তীতে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। টাকা ফেরত চাইলে কখনও ‘ভিসা প্রসেসিং চলছে’, কখনও ‘এম্বাসিতে ফাইল আছে’—এমন নানা আশ্বাস দেওয়া হতো। আবার কখনও কয়েকদিন সময় চাওয়া হতো। এভাবে দীর্ঘদিন পার হওয়ার পর একপর্যায়ে অফিস বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

‎এক ভুক্তভোগী বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন অফিস বন্ধ, ফোন বন্ধ। টাকা কোথায় পাব, আর ছেলেকে বিদেশেই বা পাঠাব কীভাবে—কিছুই বুঝতে পারছি না।

‎অন্য এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “ইমরানকে বিশ্বাস করে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন টাকা ফেরতও পাচ্ছি না, আবার বিদেশে যাওয়ার আশ্বাসও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হোমল্যান্ড লাইফে ভয়াবহ সংকট: এমডি গ্রেপ্তারের পর ৪১ কোটি টাকার এফডিআর ও ২০০ কোটি টাকার গ্রাহক পাওনা

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা ইকরা ট্রাভেলসের কর্ণধার ইমরান মাহমুদ

Update Time : 09:42:26 pm, Sunday, 23 August 2026

‎বিদেশে চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, ভিসা প্রসেসিং, হজ-ওমরাহ প্যাকেজ ও ট্রাভেল সেবার আকর্ষণীয় অফার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘ইকরা ট্রাভেলস’-এর কর্ণধার ইমরান মাহমুদের বিরুদ্ধে।

‎ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর বর্তমানে ইমরান মাহমুদ আত্মগোপনে রয়েছেন। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মানুষ এ ঘটনায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎ ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, প্রথমদিকে কয়েকজনকে বিদেশে পাঠানো এবং বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে ইমরান মাহমুদ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেন। পরে সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ।

‎ বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন, কেউ জমি বিক্রি করেছেন, আবার কেউ স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছেন বলে জানান।

‎এ ঘটনায় এক সাংবাদিকের কাছ থেকেও বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ভিসা বা বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুরুতে ইমরান মাহমুদ নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও পরবর্তীতে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। টাকা ফেরত চাইলে কখনও ‘ভিসা প্রসেসিং চলছে’, কখনও ‘এম্বাসিতে ফাইল আছে’—এমন নানা আশ্বাস দেওয়া হতো। আবার কখনও কয়েকদিন সময় চাওয়া হতো। এভাবে দীর্ঘদিন পার হওয়ার পর একপর্যায়ে অফিস বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

‎এক ভুক্তভোগী বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন অফিস বন্ধ, ফোন বন্ধ। টাকা কোথায় পাব, আর ছেলেকে বিদেশেই বা পাঠাব কীভাবে—কিছুই বুঝতে পারছি না।

‎অন্য এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “ইমরানকে বিশ্বাস করে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন টাকা ফেরতও পাচ্ছি না, আবার বিদেশে যাওয়ার আশ্বাসও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।