9:54 am, Monday, 24 August 2026

বিএম কলেজের নতুন উপাধ্যক্ষকে নিয়ে বিতর্ক: তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের পদায়নকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ২০০৭ সালে ১০ শতাংশ কোটায় সরাসরি যোগদানকারী এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক ও নৈতিক অবহেলার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তথ্য গোপন করে নিজেকে ১৬তম বিসিএস ক্যাডার দাবি করে আবেদন করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ কলেজে বর্তমানে তার চেয়ে অনেক সিনিয়র একাধিক শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা অমান্য করে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একাধিক শিক্ষকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, চলতি বছরের মাস্টার্স ভাইভা (মৌখিক) পরীক্ষায় এক প্রভাবশালী ছাত্রনেতা সশরীরে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ তাকে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রনেতা এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। ফরিদপুরের মধুখালী সরকারি আইনুদ্দীন কলেজে চাকুরীরত থাকাকালীন সময়ে তিনি তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য আব্দুর রহমানের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতেন বলে জানা যায়। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পূর্বেও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের ১৬তম বিসিএস ক্যাডার দাবি করার সত্যতা এবং তথ্য গোপনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন কলেজের অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী। একই সাথে সাধারণ শিক্ষকরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট এই বিতর্কিত পদায়ন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হোমল্যান্ড লাইফে ভয়াবহ সংকট: এমডি গ্রেপ্তারের পর ৪১ কোটি টাকার এফডিআর ও ২০০ কোটি টাকার গ্রাহক পাওনা

বিএম কলেজের নতুন উপাধ্যক্ষকে নিয়ে বিতর্ক: তথ্য গোপন ও অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ

Update Time : 11:29:13 pm, Saturday, 22 August 2026

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের পদায়নকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ২০০৭ সালে ১০ শতাংশ কোটায় সরাসরি যোগদানকারী এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক ও নৈতিক অবহেলার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তথ্য গোপন করে নিজেকে ১৬তম বিসিএস ক্যাডার দাবি করে আবেদন করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ কলেজে বর্তমানে তার চেয়ে অনেক সিনিয়র একাধিক শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা অমান্য করে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একাধিক শিক্ষকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, চলতি বছরের মাস্টার্স ভাইভা (মৌখিক) পরীক্ষায় এক প্রভাবশালী ছাত্রনেতা সশরীরে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ তাকে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রনেতা এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। ফরিদপুরের মধুখালী সরকারি আইনুদ্দীন কলেজে চাকুরীরত থাকাকালীন সময়ে তিনি তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য আব্দুর রহমানের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতেন বলে জানা যায়। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পূর্বেও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের ১৬তম বিসিএস ক্যাডার দাবি করার সত্যতা এবং তথ্য গোপনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন কলেজের অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী। একই সাথে সাধারণ শিক্ষকরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট এই বিতর্কিত পদায়ন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।