4:07 pm, Saturday, 12 September 2026

গ্রেপ্তার-শোকজের পর উল্লাপাড়ার বিএনপি নেতা আজাদের সব পদ স্থগিত

112

চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলা, শোকজের জবাবেও সন্তুষ্ট নয় জেলা বিএনপি

চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলায় গ্রেপ্তার, এরপর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ—সবশেষে শোকজের জবাবও সন্তোষজনক না হওয়ায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. আজাদ হোসেনের সব দলীয় পদ স্থগিত করেছে জেলা বিএনপি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠি অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজাদ হোসেনকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি লিখিত জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, উল্লাপাড়া থানা কম্পাউন্ডে এক বিএনপি নেতাকে মারধরে জড়িত থাকা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে গত ২৬ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাবে তিনি জেলা বিএনপির কাছে লিখিত বক্তব্য দেন। তবে সেই জবাব পর্যালোচনার পর তা সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর অনুমোদনক্রমে আজাদ হোসেনের সব দলীয় পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৬ জুলাই আজাদ হোসেন ও উল্লাপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাককে পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা বিএনপি। তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার বিষয়টিও ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এর একদিন পর, ২৭ জুলাই উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ মারামারি ও চাঁদাবাজির পৃথক দুই মামলায় আজাদ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২৮ জুলাই সকালে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তার, এরপর দলীয় শোকজ এবং সবশেষে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সব দলীয় পদ স্থগিত—টানা এসব ঘটনায় উল্লাপাড়ার বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজাদ হোসেন দলের কোনো পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি আদালতের বিষয় এবং মামলাগুলো চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, উল্লাপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকের বিষয়ে এখনো কোনো সাংগঠনিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

গ্রেপ্তার-শোকজের পর উল্লাপাড়ার বিএনপি নেতা আজাদের সব পদ স্থগিত

Update Time : 11:07:04 pm, Saturday, 8 August 2026
112

চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলা, শোকজের জবাবেও সন্তুষ্ট নয় জেলা বিএনপি

চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলায় গ্রেপ্তার, এরপর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ—সবশেষে শোকজের জবাবও সন্তোষজনক না হওয়ায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. আজাদ হোসেনের সব দলীয় পদ স্থগিত করেছে জেলা বিএনপি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠি অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজাদ হোসেনকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি লিখিত জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, উল্লাপাড়া থানা কম্পাউন্ডে এক বিএনপি নেতাকে মারধরে জড়িত থাকা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে গত ২৬ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাবে তিনি জেলা বিএনপির কাছে লিখিত বক্তব্য দেন। তবে সেই জবাব পর্যালোচনার পর তা সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর অনুমোদনক্রমে আজাদ হোসেনের সব দলীয় পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৬ জুলাই আজাদ হোসেন ও উল্লাপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাককে পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা বিএনপি। তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার বিষয়টিও ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এর একদিন পর, ২৭ জুলাই উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ মারামারি ও চাঁদাবাজির পৃথক দুই মামলায় আজাদ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২৮ জুলাই সকালে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তার, এরপর দলীয় শোকজ এবং সবশেষে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সব দলীয় পদ স্থগিত—টানা এসব ঘটনায় উল্লাপাড়ার বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজাদ হোসেন দলের কোনো পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি আদালতের বিষয় এবং মামলাগুলো চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, উল্লাপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকের বিষয়ে এখনো কোনো সাংগঠনিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ।