11:03 am, Monday, 24 August 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরাময় কেন্দ্রে প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু: নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে তোলপাড়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় ‘প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’-এ চিকিৎসাধীন ফুরকান মিয়া (২৫) নামে এক কাতারপ্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের ভেতর তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, বাথরুমে পড়ে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এই ঘটনার পর বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কেন্দ্রটিতে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন রোগী আতঙ্কে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রটিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

নিহত ফুরকান মিয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুঁড়িঘর গ্রামের (পূর্বপাড়া) রশিদ মিয়ার ছেলে। গত ১৩ আগস্ট রাতে মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য তাঁকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছিল পরিবার।

নিহতের মামাতো ভাই মো. আশরাফ জানান, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টা ও বিকেল ৫টায় দুবার নিরাময় কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রমোদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। তখন ফুরকান সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়। কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ প্রমোদ ফোন করে জানান, ফুরকানের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।

আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, “ফুরকানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর ইনচার্জ প্রমোদ আমাদের নিরাময় কেন্দ্রে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে আমরা জানতে পারি ফুরকান আর বেঁচে নেই। ফুরকানের গলা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে ‘প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’-এর ইনচার্জ প্রমোদ বলেন, “মঙ্গলবার রাতে ফুরকান বাথরুমে পড়ে যান। এরপর তাঁর বুকে ব্যথা ও প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা শুরু করি। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই তাঁর মৃত্যু হয়। নির্যাতন বা অন্য কোনো ঘটনার বিষয়টি সত্য নয়।”

ফুরকানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রের অন্যান্য রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপুরে নিরাময় কেন্দ্রের নিরাপত্তা ভেঙে কয়েকজন রোগী পালিয়ে যান। এরপরই উত্তেজিত জনতা কেন্দ্রটিতে ভাঙচুর চালায় ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর কিছু রোগী আতঙ্কে কেন্দ্র ছেড়ে পালিয়েছেন।

ওসি আরও বলেন, “মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরাময় কেন্দ্রে প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু: নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে তোলপাড়

Update Time : 01:22:30 pm, Thursday, 20 August 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় ‘প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’-এ চিকিৎসাধীন ফুরকান মিয়া (২৫) নামে এক কাতারপ্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের ভেতর তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, বাথরুমে পড়ে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এই ঘটনার পর বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কেন্দ্রটিতে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন রোগী আতঙ্কে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রটিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

নিহত ফুরকান মিয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুঁড়িঘর গ্রামের (পূর্বপাড়া) রশিদ মিয়ার ছেলে। গত ১৩ আগস্ট রাতে মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য তাঁকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছিল পরিবার।

নিহতের মামাতো ভাই মো. আশরাফ জানান, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টা ও বিকেল ৫টায় দুবার নিরাময় কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রমোদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। তখন ফুরকান সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়। কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ প্রমোদ ফোন করে জানান, ফুরকানের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।

আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, “ফুরকানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর ইনচার্জ প্রমোদ আমাদের নিরাময় কেন্দ্রে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছে আমরা জানতে পারি ফুরকান আর বেঁচে নেই। ফুরকানের গলা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে ‘প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’-এর ইনচার্জ প্রমোদ বলেন, “মঙ্গলবার রাতে ফুরকান বাথরুমে পড়ে যান। এরপর তাঁর বুকে ব্যথা ও প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা শুরু করি। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই তাঁর মৃত্যু হয়। নির্যাতন বা অন্য কোনো ঘটনার বিষয়টি সত্য নয়।”

ফুরকানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রের অন্যান্য রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপুরে নিরাময় কেন্দ্রের নিরাপত্তা ভেঙে কয়েকজন রোগী পালিয়ে যান। এরপরই উত্তেজিত জনতা কেন্দ্রটিতে ভাঙচুর চালায় ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর কিছু রোগী আতঙ্কে কেন্দ্র ছেড়ে পালিয়েছেন।

ওসি আরও বলেন, “মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”