1:45 pm, Saturday, 12 September 2026

এরশাদ আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহব্বত জান চৌধুরী আর নেই

221

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মহব্বত জান চৌধুরী আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ক্লাবের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হক।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিকের সহকর্মী, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সামরিক জীবন দিয়ে কর্মজীবনের শুরু
মহব্বত জান চৌধুরীর কর্মজীবনের বড় একটি অধ্যায় কেটেছে সামরিক বাহিনীতে। বিভিন্ন জীবনীভিত্তিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
সামরিক জীবনে তিনি স্টাফ সদর দপ্তর, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশে ফিরে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতেও যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) উপমহাপরিচালক এবং সেনাসদরের সিগন্যাল পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে দেশের সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন।
ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক
মহব্বত জান চৌধুরীর সামরিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক পদ।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সামরিক জীবন থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেন।
এরশাদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৯৮২ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর যে সামরিক-সমর্থিত সরকারব্যবস্থা গড়ে ওঠে, মহব্বত জান চৌধুরী সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি তালিকা অনুযায়ী, মেজর জেনারেল মহব্বত জান চৌধুরী ১৭ জুলাই ১৯৮২ থেকে ১৯ জুলাই ১৯৮৩ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অর্থাৎ প্রায় এক বছর তিনি দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পরও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন মহব্বত জান চৌধুরী।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি ১৬ জানুয়ারি ১৯৮৫ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮৬ পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২৫ মে ১৯৮৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ১৯৮৬ পর্যন্ত আবারও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
এতে দেখা যায়, এরশাদ সরকারের সময়ে তিনি শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, খাদ্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ ও সংসদ সদস্য
সামরিক জীবন থেকে অবসরের পর মহব্বত জান চৌধুরী সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ফরিদপুর-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এরশাদ-সমর্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও জোট গঠনের প্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হন।
এরশাদ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ
মহব্বত জান চৌধুরীর জীবন ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত সময়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এরপর সামরিক শাসনামলে মন্ত্রী হন এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
তার জীবনের এই ধারাবাহিকতা—সেনাবাহিনী, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, মন্ত্রিসভা এবং সংসদ—তাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্রে পরিণত করেছে।
গোপালগঞ্জে জন্ম
মহব্বত জান চৌধুরী গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। প্রকাশিত জীবনীভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, তার পারিবারিক শিকড় গোপালগঞ্জের খানপুর এলাকার একটি পুরোনো জমিদার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সামরিক ও রাজনৈতিক জীবনের বাইরে তিনি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (MIDAS)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শেষ অধ্যায়
দীর্ঘ কর্মময় জীবনে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা মহব্বত জান চৌধুরীর জীবনাবসান হলো ৯২ বছর বয়সে।
সোমবার দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। তার জানাজা সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং পরে সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা জানানো হয়েছে।
মহব্বত জান চৌধুরীর মৃত্যু বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা থেকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য—বহুমাত্রিক কর্মজীবনের কারণে দেশের ইতিহাসে তার নাম দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

এরশাদ আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহব্বত জান চৌধুরী আর নেই

Update Time : 09:11:02 am, Tuesday, 25 August 2026
221

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মহব্বত জান চৌধুরী আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ক্লাবের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হক।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিকের সহকর্মী, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সামরিক জীবন দিয়ে কর্মজীবনের শুরু
মহব্বত জান চৌধুরীর কর্মজীবনের বড় একটি অধ্যায় কেটেছে সামরিক বাহিনীতে। বিভিন্ন জীবনীভিত্তিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
সামরিক জীবনে তিনি স্টাফ সদর দপ্তর, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশে ফিরে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতেও যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) উপমহাপরিচালক এবং সেনাসদরের সিগন্যাল পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে দেশের সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন।
ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক
মহব্বত জান চৌধুরীর সামরিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক পদ।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সামরিক জীবন থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেন।
এরশাদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৯৮২ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর যে সামরিক-সমর্থিত সরকারব্যবস্থা গড়ে ওঠে, মহব্বত জান চৌধুরী সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি তালিকা অনুযায়ী, মেজর জেনারেল মহব্বত জান চৌধুরী ১৭ জুলাই ১৯৮২ থেকে ১৯ জুলাই ১৯৮৩ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অর্থাৎ প্রায় এক বছর তিনি দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পরও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন মহব্বত জান চৌধুরী।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি ১৬ জানুয়ারি ১৯৮৫ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮৬ পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২৫ মে ১৯৮৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ১৯৮৬ পর্যন্ত আবারও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
এতে দেখা যায়, এরশাদ সরকারের সময়ে তিনি শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, খাদ্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ ও সংসদ সদস্য
সামরিক জীবন থেকে অবসরের পর মহব্বত জান চৌধুরী সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ফরিদপুর-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এরশাদ-সমর্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও জোট গঠনের প্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হন।
এরশাদ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ
মহব্বত জান চৌধুরীর জীবন ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত সময়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এরপর সামরিক শাসনামলে মন্ত্রী হন এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
তার জীবনের এই ধারাবাহিকতা—সেনাবাহিনী, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, মন্ত্রিসভা এবং সংসদ—তাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্রে পরিণত করেছে।
গোপালগঞ্জে জন্ম
মহব্বত জান চৌধুরী গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। প্রকাশিত জীবনীভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, তার পারিবারিক শিকড় গোপালগঞ্জের খানপুর এলাকার একটি পুরোনো জমিদার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সামরিক ও রাজনৈতিক জীবনের বাইরে তিনি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (MIDAS)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শেষ অধ্যায়
দীর্ঘ কর্মময় জীবনে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা মহব্বত জান চৌধুরীর জীবনাবসান হলো ৯২ বছর বয়সে।
সোমবার দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। তার জানাজা সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং পরে সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা জানানো হয়েছে।
মহব্বত জান চৌধুরীর মৃত্যু বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা থেকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য—বহুমাত্রিক কর্মজীবনের কারণে দেশের ইতিহাসে তার নাম দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।