1:45 pm, Saturday, 12 September 2026

পাহাড়ি ঢলে আখাউড়ার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত, দ্রুত পানি নামার আশা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে কয়েক দিন ধরে অব্যাহত টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। তবে প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে না স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল থেকে আখাউড়া উপজেলার সীমান্ত ঘেষা এলাকাগুলোতে আকস্মিকভাবে পানি বাড়তে শুরু করে। এতে দ্রুতই প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। পরবর্তীতে সোমবারে হাওড়া নদীর আশপাশের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও কালন্দী খালসংলগ্ন এলাকায় পানিপ্রবাহ অপরিবর্তিত থাকে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, ত্রিপুরায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় প্রধানত আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ও মোগড়া ইউনিয়নের কিছু নিচু এলাকার কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। তবে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কৃষিজমিতে জমা পানি খুব দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন হলে চলমান ফসলের বড় কোনো ক্ষতি হবে না।”

সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, হাওড়া নদীর চারপাশের পানি ইতোমধ্যে নামতে শুরু করেছে। তবে কালন্দী খালসংলগ্ন এলাকার জমা পানি এখনো সরেনি। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো বসতবাড়িতে পানি ওঠেনি এবং আশ্রয়কেন্দ্র খোলার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। আমরা সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি রাখছি।”

এদিকে ভারতের ত্রিপুরার স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সেখানে টানা ভারি বর্ষণে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় ইতোমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা ১৭টি আশ্রয়শিবিরে চার শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত থাকায় ত্রিপুরায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও পড়তে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

পাহাড়ি ঢলে আখাউড়ার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত, দ্রুত পানি নামার আশা

Update Time : 08:43:25 pm, Monday, 24 August 2026

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে কয়েক দিন ধরে অব্যাহত টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। তবে প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে না স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল থেকে আখাউড়া উপজেলার সীমান্ত ঘেষা এলাকাগুলোতে আকস্মিকভাবে পানি বাড়তে শুরু করে। এতে দ্রুতই প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। পরবর্তীতে সোমবারে হাওড়া নদীর আশপাশের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও কালন্দী খালসংলগ্ন এলাকায় পানিপ্রবাহ অপরিবর্তিত থাকে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, ত্রিপুরায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় প্রধানত আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ও মোগড়া ইউনিয়নের কিছু নিচু এলাকার কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। তবে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কৃষিজমিতে জমা পানি খুব দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন হলে চলমান ফসলের বড় কোনো ক্ষতি হবে না।”

সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, হাওড়া নদীর চারপাশের পানি ইতোমধ্যে নামতে শুরু করেছে। তবে কালন্দী খালসংলগ্ন এলাকার জমা পানি এখনো সরেনি। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো বসতবাড়িতে পানি ওঠেনি এবং আশ্রয়কেন্দ্র খোলার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। আমরা সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি রাখছি।”

এদিকে ভারতের ত্রিপুরার স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সেখানে টানা ভারি বর্ষণে বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় ইতোমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা ১৭টি আশ্রয়শিবিরে চার শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত থাকায় ত্রিপুরায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও পড়তে পারে।