
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের পইরবাড়ী এলাকায় রফিকুল ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের স্বজন ও স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মনোহর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, রফিকুল ইসলামের ছোট ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসার জন্য নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মনোহরের কাছে ১০ হাজার টাকা দেন। পরে ওই টাকা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করলে রফিকুল ইসলাম জীবিত অবস্থায় মনোহরের কাছে টাকা ফেরত চান এবং এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার দিন রাতে মনোহর রফিকুল ইসলামকে তার মায়ের কাছ থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর একটি ঘরের ভেতরে কয়েকজন মিলে তাকে হত্যা করা হয়। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মৃত্যুর পর এলাকায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাইকিং করা হয়নি এবং বিষয়টি গোপন রেখে দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া দাফনের পর কয়েকদিন অভিযুক্ত মনোহর ও তার ঘনিষ্ঠজনদের এলাকাছাড়া থাকার কথাও জানা গেছে।
মৃতের মায়ের অভিযোগ, অভিযুক্তদের ভয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তিনি প্রাণনাশের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন। একই কারণে অনেক স্থানীয় বাসিন্দাও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হতে পারে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনোহর বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তসাপেক্ষ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
























