
দেশে নারী সাংবাদিকের সংখ্যা এমনিতেই তুলনামূলকভাবে কম। যারা সাহস করে এই পেশায় আসেন, তাদের অনেকেই মাঠের ঝুঁকির চেয়ে বেশি বাধার মুখোমুখি হন কর্মক্ষেত্রে। অনৈতিক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং অসুস্থ মানসিকতার কারণে অনেক নারী সাংবাদিককে অল্প সময়েই পেশা থেকে সরে যেতে বাধ্য হতে হয়।
একজন নারী সাংবাদিকের কলম থেমে যাওয়া শুধু একজন নারীর স্বপ্নের মৃত্যু নয়—এটি গণমাধ্যমের শক্তি, বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনারও ক্ষতি।
নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হোক।
যোগ্যতা দিয়ে মূল্যায়ন হোক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক দিয়ে নয়।
সাংবাদিকতা হোক পেশা—কোনো ব্যক্তির ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়।
নারী সাংবাদিক কম—এটাই বাস্তবতা। আর যারা সাহস করে এই পেশায় টিকে আছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্বও আমাদের সবার।
কোনো সম্পাদক, মালিক, সিনিয়র সাংবাদিক কিংবা ক্ষমতাবান ব্যক্তির অনৈতিক আচরণ যেন একজন নারী সাংবাদিকের ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারণ না হয়। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার অপব্যবহার দিয়ে যেন কারও পেশাগত ভবিষ্যৎ নির্ধারিত না হয়।
কারণ একজন নারী সাংবাদিক ঝরে পড়া মানে শুধু একজন কর্মীর হারিয়ে যাওয়া নয়—একটি সম্ভাবনাময় কণ্ঠের নীরব হয়ে যাওয়া।
একজন নারী যখন সাংবাদিকতায় আসেন, তিনি শুধু একটি চাকরি বেছে নেন না; তিনি সমাজের অন্যায়, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস বেছে নেন।
কিন্তু সেই সাহস যদি কর্মক্ষেত্রেই নিরাপত্তাহীনতা, হয়রানি কিংবা ক্ষমতাবানদের অনৈতিক আচরণের কাছে পরাজিত হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—
আমরা কি সত্যিই নারী সাংবাদিকদের এগিয়ে নিতে চাই, নাকি শুধু তাদের উপস্থিতি দেখতে চাই?
নারী সাংবাদিকদের প্রয়োজন করুণা নয়—সম্মান।
প্রয়োজন বিশেষ সুবিধা নয়—সমান সুযোগ।
প্রয়োজন মৌখিক আশ্বাস নয়—নিরাপদ কর্মপরিবেশ।
একজন নারী সাংবাদিককে ঝরে পড়তে দেবেন না।
তার কলমকে থামিয়ে দেবেন না।
কারণ সেই কলম শুধু তার নিজের কথা বলে না—সেই কলম সমাজের সত্য, মানুষের অধিকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে।
#নারীসাংবাদিক
#নিরাপদকর্মপরিবেশ
#সমানসুযোগ
#সাংবাদিকতা
#নারীরঅধিকার
#গণমাধ্যম
শারমিন আক্তার 

























