9:55 am, Monday, 24 August 2026

কারেন্ট আসে-যায়, ঠিক নেই সময়’, বকশীগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে মানুষ।

105

কারেন্ট কখন আসে, আর কখন যায়—তার ঠিক নেই।’ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এমন মন্তব্য এখন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার অনেক বিদ্যুৎ গ্রাহকের। বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।

বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি সাপ্লাই সাব-স্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। এটি শেরপুর জেলার গাজীর খামার গ্রিড সাব-স্টেশন কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বকশীগঞ্জ সাপ্লাই সাব-স্টেশন কেন্দ্রের আওতায় প্রায় ৭৫ হাজার আবাসিক ও ১ হাজার ৭০০ সেচ গ্রাহক রয়েছেন।

অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পিক সময়ে বকশীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকছে ১৩ মেগাওয়াট। অন্যদিকে অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। এ সময়ও ঘাটতি থাকছে ১০ মেগাওয়াট।

চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাহাত বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।

ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজু বলেন, বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পর আবার চলে যাচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বগারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফ বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এমন সংকটে মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বকশীগঞ্জ জোনাল অফিস) মো. আকবর হোসেন মিঞা বলেন, বকশীগঞ্জে পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮ মেগাওয়াট। আর অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নির্ভর করছে। সরবরাহ বাড়লে বকশীগঞ্জেও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমে আসবে।

স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে লোডশেডিং কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হোমল্যান্ড লাইফে ভয়াবহ সংকট: এমডি গ্রেপ্তারের পর ৪১ কোটি টাকার এফডিআর ও ২০০ কোটি টাকার গ্রাহক পাওনা

কারেন্ট আসে-যায়, ঠিক নেই সময়’, বকশীগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে মানুষ।

Update Time : 11:55:22 am, Tuesday, 11 August 2026
105

কারেন্ট কখন আসে, আর কখন যায়—তার ঠিক নেই।’ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এমন মন্তব্য এখন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার অনেক বিদ্যুৎ গ্রাহকের। বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।

বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি সাপ্লাই সাব-স্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। এটি শেরপুর জেলার গাজীর খামার গ্রিড সাব-স্টেশন কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বকশীগঞ্জ সাপ্লাই সাব-স্টেশন কেন্দ্রের আওতায় প্রায় ৭৫ হাজার আবাসিক ও ১ হাজার ৭০০ সেচ গ্রাহক রয়েছেন।

অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পিক সময়ে বকশীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকছে ১৩ মেগাওয়াট। অন্যদিকে অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। এ সময়ও ঘাটতি থাকছে ১০ মেগাওয়াট।

চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাহাত বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।

ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজু বলেন, বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পর আবার চলে যাচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বগারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফ বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এমন সংকটে মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বকশীগঞ্জ জোনাল অফিস) মো. আকবর হোসেন মিঞা বলেন, বকশীগঞ্জে পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮ মেগাওয়াট। আর অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নির্ভর করছে। সরবরাহ বাড়লে বকশীগঞ্জেও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমে আসবে।

স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে লোডশেডিং কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।