
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মিষ্টির দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও চরম নোংরা পরিবেশে ক্ষতিকর ছানা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিনের পর দিন অবাধে চলছে এই ব্যবসা। ফলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিশুরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা থেকে ‘পবিত্র’ নামের এক ব্যক্তি নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর ছানা পরিবহন করে ভাণ্ডারিয়ায় পাঠায়। ভাণ্ডারিয়ায় অবস্থানরত তার ভাই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার তদারকি করে স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলোতে এই ছানা সরবরাহ বা ডেলিভারি দিয়ে থাকে। সম্প্রতি নোংরা বস্তা, সার ও পশুখাদ্যের ব্যবহৃত পুরনো থলিতে খোলামেলা ও নোংরা অবস্থায় এসব ছানা পরিবহনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে বিষয়টি নজরে এলে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ হাসিবুল হাসান কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ছানা প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী ও স্থানীয় মিষ্টির দোকান মালিকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেন যে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ত্যাগ করে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিচ্ছন্ন প্যাকেটজাত করে ছানা বাজারজাত করতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের ১০ (দশ) দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
তবে ১০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বিন্দুমাত্র সুধরে যায়নি। প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে তারা পূর্বের ন্যায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর কায়দায় খোলা ছানা বিক্রি ও সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা:
চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উন্মুক্ত ও নোংরা বস্তায় পনির/ছানা পরিবহনের ফলে এতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। এই ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টি খেয়ে সাধারণ মানুষ পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং এবং লিভারের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা এই বিষাক্ত মিষ্টি খেয়ে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি:
ভাণ্ডারিয়ার সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল সতর্কবার্তা দিয়ে এই অসাধু চক্রকে থামানো সম্ভব নয়। এর থেকে স্থায়ী পরিত্রাণ পেতে হলে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে আইন অমান্যকারী ছানা সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ভাণ্ডারিয়ার সাধারণ ক্রেতারা এই অসাধু চক্রের হাত থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের আশু দৃষ্টি ও কঠোর আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি : 



















