9:51 am, Monday, 24 August 2026

ইজারা ব্যবস্থা- প্রেক্ষাপট ও  বাস্তবতা বিষয়ে বাংলাদেশ লেখক শিবির সিলেটের ১০ দফা দাবি উত্থাপন

বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে আজ  সিলেট প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির সভাপতি খালেদ উদ দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আলোচ্য বিষয়ে প্রবন্ধ পাঠ  করেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, নুরুল ইসলাম মকবুল সমন্বয়ক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখা, নুরুল হুদা সালেহ প্রবীন রাজনীতিক সদস্য বাঙলাদেশ লেখক শিবির, আকলিছ আহমেদ চৌধুরী সাবেক সহ-সভাপতি বাঙলাদেশ লেখক শিবির  সিলেট জেলা শাখা, 

আরো বক্তব্য রাখেন, কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মোঃ সাহেব আলী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং সদস্য জুনেদ আহমেদ।  গোয়াইনঘাট উপজেলার দক্ষিণ প্রতাপপুরের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ, বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সদস্য  শিরিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও  মানবাধিকার কর্মী মোঃ মুহিবুর রহমান, অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক শামসুল কিবরিয়া। 

মিনহাজ আহমেদের উপস্থাপিত প্রবন্ধে  ইজারা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও আইনের প্রয়োগ  উঠে এসেছে। সেই সাথে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করা হয়। 

গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা শাওন দেবনাথের বক্তব্যে বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণপতাপুর গ্রামের অস্তিত্ব  বিলীন হওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে। 

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার  কৃষক-মজুর -মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মোঃ সাহেব আলীর বক্তব্যে উথাইরা গাং এ পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আলোচনা করা হয়। এই সংগঠনের অপর সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বক্তব্যে জনগণের সম্পদ  বালু- মাটি -পাথর ও জলাশয়ের উপর অধিকার আদায়ে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। 

নুরুল ইসলাম মকবুল  ইজারা  ব্যবস্থার  ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনগণের আন্দোলন সংগ্রামের দিকটি তুলে ধরেন। সাংবাদিক বদরুল ইসলামের বক্তব্যে নদী খাল দখল করে ঘর বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্যে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের বালু ও মাটি উত্তোলনের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়। 

সভাপতির বক্তব্যে খালেদ উদ দীন বালু -মাটি -পাথর পানি প্রাকৃতিক সম্পদের উপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। যার মধ্যে রয়েছে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপন আইন ২০১০ বাতিল, বালু-মাটি-পাথর ও পানি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে নীতিমালা প্রণয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তি খাতে  ইজারা না দেওয়া, অভিযুক্ত ইজারাদারদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা, হাইড্রোগ্রাফিক, ব্যথিমেট্রিক সার্ভে এবং নদীর গঠনগত সমীক্ষার ভিত্তিতে বালুমহাল ও জলমহালের সীমানা নির্ধারণ, বালু-মাটি -পাথর ও পানি প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে ও বিক্রয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা, নদীর ভূ প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা।  

আলোচনা সভা হতে উপরোক্ত দাবি আদায়ে  সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হোমল্যান্ড লাইফে ভয়াবহ সংকট: এমডি গ্রেপ্তারের পর ৪১ কোটি টাকার এফডিআর ও ২০০ কোটি টাকার গ্রাহক পাওনা

ইজারা ব্যবস্থা- প্রেক্ষাপট ও  বাস্তবতা বিষয়ে বাংলাদেশ লেখক শিবির সিলেটের ১০ দফা দাবি উত্থাপন

Update Time : 09:20:32 pm, Sunday, 16 August 2026

বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে আজ  সিলেট প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির সভাপতি খালেদ উদ দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আলোচ্য বিষয়ে প্রবন্ধ পাঠ  করেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, নুরুল ইসলাম মকবুল সমন্বয়ক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখা, নুরুল হুদা সালেহ প্রবীন রাজনীতিক সদস্য বাঙলাদেশ লেখক শিবির, আকলিছ আহমেদ চৌধুরী সাবেক সহ-সভাপতি বাঙলাদেশ লেখক শিবির  সিলেট জেলা শাখা, 

আরো বক্তব্য রাখেন, কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মোঃ সাহেব আলী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং সদস্য জুনেদ আহমেদ।  গোয়াইনঘাট উপজেলার দক্ষিণ প্রতাপপুরের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ, বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সদস্য  শিরিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও  মানবাধিকার কর্মী মোঃ মুহিবুর রহমান, অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক শামসুল কিবরিয়া। 

মিনহাজ আহমেদের উপস্থাপিত প্রবন্ধে  ইজারা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও আইনের প্রয়োগ  উঠে এসেছে। সেই সাথে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করা হয়। 

গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা শাওন দেবনাথের বক্তব্যে বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণপতাপুর গ্রামের অস্তিত্ব  বিলীন হওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে। 

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার  কৃষক-মজুর -মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মোঃ সাহেব আলীর বক্তব্যে উথাইরা গাং এ পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আলোচনা করা হয়। এই সংগঠনের অপর সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বক্তব্যে জনগণের সম্পদ  বালু- মাটি -পাথর ও জলাশয়ের উপর অধিকার আদায়ে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। 

নুরুল ইসলাম মকবুল  ইজারা  ব্যবস্থার  ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনগণের আন্দোলন সংগ্রামের দিকটি তুলে ধরেন। সাংবাদিক বদরুল ইসলামের বক্তব্যে নদী খাল দখল করে ঘর বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্যে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের বালু ও মাটি উত্তোলনের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়। 

সভাপতির বক্তব্যে খালেদ উদ দীন বালু -মাটি -পাথর পানি প্রাকৃতিক সম্পদের উপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। যার মধ্যে রয়েছে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপন আইন ২০১০ বাতিল, বালু-মাটি-পাথর ও পানি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে নীতিমালা প্রণয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তি খাতে  ইজারা না দেওয়া, অভিযুক্ত ইজারাদারদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা, হাইড্রোগ্রাফিক, ব্যথিমেট্রিক সার্ভে এবং নদীর গঠনগত সমীক্ষার ভিত্তিতে বালুমহাল ও জলমহালের সীমানা নির্ধারণ, বালু-মাটি -পাথর ও পানি প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে ও বিক্রয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা, নদীর ভূ প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা।  

আলোচনা সভা হতে উপরোক্ত দাবি আদায়ে  সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।