
২০ বছর ইউপি সদস্যের দায়িত্ব পালন, বাবা ছিলেন ১৫ বছর
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৫ নম্বর শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আলম সেপাই। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
আলম সেপাই কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের জোলাগাতি গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছেন তিনি।
আলম সেপাই জানান, রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় তাঁকে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর বাবার নির্বাচনের সময় বিএনপির কর্মী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় জোলাগাতি মাদ্রাসার সামনের মাঠে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। দলীয় পরিচয়ের কারণে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জনপ্রতিনিধি হিসেবেও আলম সেপাইয়ের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি নিজে প্রায় ২০ বছর ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তাঁর বাবা টানা ১৫ বছর একই ইউনিয়নে ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জনপ্রতিনিধিত্বমূলক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আলম সেপাই জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান তিনি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কার, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিতে চান বলে জানান আলম সেপাই। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন সহজে জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়েও কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা। তবে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
আলম সেপাই বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা নয়, এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য। জীবনের বাকি সময়টুকু মানুষের সেবায় ব্যয় করতে চান তিনি। এ জন্য তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁদের পরিকল্পনা বিবেচনা করেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন।
লোকমান হোসেন সিনিয়র রিপোর্টার 














