9:53 am, Wednesday, 28 October 2026

কেশবপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের পর বেড়েছে মসলাজাতীয় ফসল হলুদের চাষ

যশোরের কেশবপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের পর বেড়েছে বহুল ব্যবহৃত মসলাজাতীয় ফসল হলুদের চাষ। নদী পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা কমে জেগে উঠেছে উর্বর কৃষিজমি। সেই জমিতে এবার হলুদের আবাদ করে নতুন স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। কেশবপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের পর চলতি মৌসুমে বেড়েছে মসলাজাতীয় ফসল হলুদের চাষ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ জমি এখন হলুদের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। কম খরচে ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা থাকায় এ ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। তাঁদের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে হলুদ চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেশবপুরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদ পুনঃখনন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। পানি নেমে যাওয়ায় কৃষিজমি চাষাবাদের উপযোগী হয়ে ওঠে। ফলে অনাবাদি জমিতে নতুন করে ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর কেশবপুরে ১০০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ হেক্টরে। উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা, মির্জাপুর, শ্রীফলা, প্রতাপপুর ও বায়সা, পাঁজিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর, গড়ভাঙ্গা, বেলকাঠি ও সাগরদত্তকাঠি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মঙ্গলকোট ও বসুন্তিয়া, কেদারপুর; হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর, কাবিলপুর ও হাসানপুর; ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চাঁদড়া, মির্জানগর, বরনডালি ও গোপালপুর এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাহানপুর, ভালুকঘর ও বেগমপুর এলাকায় ব্যাপকভাবে হলুদের চাষ হয়েছে। সরেজমিন উপজেলার বেলকাঠি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ কৃষিজমি হলুদের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। সারি সারি জমিতে বেড়ে উঠছে হলুদের গাছ। জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে আগে ঠিকমতো চাষাবাদ করা যেত না, সেসব জমিতে এখন ফলন ঘরে তোলার প্রত্যাশায় পরিচর্যা করছেন কৃষকেরা। এ সময় কথা হয় বেলকাঠি গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি এক বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করেছেন। সিদ্দিকুর রহমান জানান, তুলনামূলক কম খরচে হলুদ চাষ করা যায়। বীজের ধরনভেদে প্রতি কাঠা জমিতে খরচ হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সাত থেকে আট কেজি বীজ হলুদের দাম পড়ে প্রায় ৫০০ টাকা। প্রতি কাঠায় পাঁচ থেকে সাত মণ পর্যন্ত হলুদ উৎপাদন হয়। প্রকারভেদে প্রতি মণ কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা দরে। এ কারণে হলুদ চাষে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আরো অনেক কৃষক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন জানান, হরিহর নদ পুনঃখননের ফলে কেশবপুরের গৌরীঘোনা, সুফলাকাটি, পাঁজিয়া, মজিদপুর, মঙ্গলকোট ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা আগে বছরের পাঁচ থেকে ছয় মাস জলাবদ্ধ থাকত। পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকেরা এখন স্বস্তিতে চাষাবাদ করতে পারছেন। এতে কৃষিজমির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জলাবদ্ধতা না থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় হলুদের আবাদ বেড়েছে। ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কেশবপুরে দুঃস্থ, অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে বিশেষ অনুদান প্রদান

কেশবপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের পর বেড়েছে মসলাজাতীয় ফসল হলুদের চাষ

Update Time : 04:42:33 pm, Tuesday, 27 October 2026

যশোরের কেশবপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের পর বেড়েছে বহুল ব্যবহৃত মসলাজাতীয় ফসল হলুদের চাষ। নদী পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা কমে জেগে উঠেছে উর্বর কৃষিজমি। সেই জমিতে এবার হলুদের আবাদ করে নতুন স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। কেশবপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের পর চলতি মৌসুমে বেড়েছে মসলাজাতীয় ফসল হলুদের চাষ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ জমি এখন হলুদের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। কম খরচে ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা থাকায় এ ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। তাঁদের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে হলুদ চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেশবপুরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদ পুনঃখনন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। পানি নেমে যাওয়ায় কৃষিজমি চাষাবাদের উপযোগী হয়ে ওঠে। ফলে অনাবাদি জমিতে নতুন করে ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর কেশবপুরে ১০০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ হেক্টরে। উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা, মির্জাপুর, শ্রীফলা, প্রতাপপুর ও বায়সা, পাঁজিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর, গড়ভাঙ্গা, বেলকাঠি ও সাগরদত্তকাঠি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মঙ্গলকোট ও বসুন্তিয়া, কেদারপুর; হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর, কাবিলপুর ও হাসানপুর; ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চাঁদড়া, মির্জানগর, বরনডালি ও গোপালপুর এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাহানপুর, ভালুকঘর ও বেগমপুর এলাকায় ব্যাপকভাবে হলুদের চাষ হয়েছে। সরেজমিন উপজেলার বেলকাঠি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ কৃষিজমি হলুদের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। সারি সারি জমিতে বেড়ে উঠছে হলুদের গাছ। জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে আগে ঠিকমতো চাষাবাদ করা যেত না, সেসব জমিতে এখন ফলন ঘরে তোলার প্রত্যাশায় পরিচর্যা করছেন কৃষকেরা। এ সময় কথা হয় বেলকাঠি গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি এক বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করেছেন। সিদ্দিকুর রহমান জানান, তুলনামূলক কম খরচে হলুদ চাষ করা যায়। বীজের ধরনভেদে প্রতি কাঠা জমিতে খরচ হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সাত থেকে আট কেজি বীজ হলুদের দাম পড়ে প্রায় ৫০০ টাকা। প্রতি কাঠায় পাঁচ থেকে সাত মণ পর্যন্ত হলুদ উৎপাদন হয়। প্রকারভেদে প্রতি মণ কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা দরে। এ কারণে হলুদ চাষে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আরো অনেক কৃষক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন জানান, হরিহর নদ পুনঃখননের ফলে কেশবপুরের গৌরীঘোনা, সুফলাকাটি, পাঁজিয়া, মজিদপুর, মঙ্গলকোট ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা আগে বছরের পাঁচ থেকে ছয় মাস জলাবদ্ধ থাকত। পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকেরা এখন স্বস্তিতে চাষাবাদ করতে পারছেন। এতে কৃষিজমির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জলাবদ্ধতা না থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় হলুদের আবাদ বেড়েছে। ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি।