1:12 pm, Wednesday, 28 October 2026

অপরাধ দমনে কঠোর, সেবায় মানবিক—আশুলিয়ার ওসি তরিকুল ইসলাম

মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে ইয়াবা-হেরোইন-গাঁজাসহ মাদক উদ্ধার; গ্রেপ্তার বহু, দুই দফায় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি

আশুলিয়া: শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। গত ২৬ এপ্রিল আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আশুলিয়া থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

৮ জুন পৃথক অভিযানে পাঁচ মাদক কারবারিকে ১৪৫ পিস ইয়াবা ও ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মলম পার্টির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

এরপর ১০ জুন তিনজনকে ৮০ পিস ইয়াবাসহ, ১২ জুন সাতজনকে ১০২ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ এবং ১৩ জুন ছয়জনকে ৬৬ পিস ইয়াবা, ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ৪০ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ১৭ ও ১৮ জুনের ধারাবাহিক অভিযানে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৬৭ পিস ইয়াবা, ৫৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৩০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

২১ জুন পৃথক তিন অভিযানে পাঁচজনকে ১৫০ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির ৪৯ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ জুন আরও তিনজনকে দুই গ্রাম হেরোইন, ২৫ গ্রাম গাঁজা ও ১২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

জুলাইয়েও অভিযান অব্যাহত থাকে। ৩ জুলাই দুইজনকে ২০ পিস ইয়াবাসহ, ৪ জুলাই একজনকে ১৪০ পিস ইয়াবাসহ এবং ১৫ জুলাই চারজনকে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

আগস্টে অভিযানের পরিধি আরও বাড়ে। ১০ আগস্ট পৃথক চার অভিযানে পাঁচজনকে ৭৮ পিস ইয়াবা, ১১৭ পুরিয়া হেরোইন ও ৭৫ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ১২ আগস্ট দুইজনকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ এবং ১৪ আগস্ট একজনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ২৭ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট ভোর পর্যন্ত ডেন্ডাবর ও বিশমাইল এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও সাতজনকে হেরোইন ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

সেপ্টেম্বরেও অভিযান থামেনি। ১ সেপ্টেম্বর চারজনকে ১২২ পিস ইয়াবাসহ এবং ৭ সেপ্টেম্বর খেঁজুরটেক এলাকায় স্বপন হোসেন নামে এক যুবককে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও তৎপর রয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঢাকা জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা সভায় পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, গত দুই মাসে আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭৫টি মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় ১২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ১৪ জন ছিনতাইকারী ও ১২ জন চোর গ্রেপ্তারের তথ্যও জানানো হয়।

তাৎক্ষণিক অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুরোনো মামলার পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০১৮ সালের একটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. শামীম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্মতৎপরতার স্বীকৃতি হিসেবে দুই দফায় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। মে মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পর জুলাই মাসের মূল্যায়নেও তিনি এ স্বীকৃতি পান।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সূচকে এ মূল্যায়ন করা হয়।

ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ অর্জন আশুলিয়া থানার সব পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।

মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আশুলিয়া থানা পুলিশ নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকমুক্ত আশুলিয়া গড়তে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অপরাধ দমনের পাশাপাশি থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অমায়িক ও মানবিক আচরণের বিষয়টিও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ওসি বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

পুলিশ সদস্যদের সৌজন্যমূলক আচরণ ও সহযোগিতার কারণে থানায় সেবাপ্রত্যাশীদের পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।

মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান চলছে। মাদকমুক্ত আশুলিয়া গড়তে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কেশবপুরে দুঃস্থ, অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে বিশেষ অনুদান প্রদান

অপরাধ দমনে কঠোর, সেবায় মানবিক—আশুলিয়ার ওসি তরিকুল ইসলাম

Update Time : 08:21:31 pm, Thursday, 24 September 2026

মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে ইয়াবা-হেরোইন-গাঁজাসহ মাদক উদ্ধার; গ্রেপ্তার বহু, দুই দফায় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি

আশুলিয়া: শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। গত ২৬ এপ্রিল আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আশুলিয়া থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

৮ জুন পৃথক অভিযানে পাঁচ মাদক কারবারিকে ১৪৫ পিস ইয়াবা ও ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মলম পার্টির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

এরপর ১০ জুন তিনজনকে ৮০ পিস ইয়াবাসহ, ১২ জুন সাতজনকে ১০২ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ এবং ১৩ জুন ছয়জনকে ৬৬ পিস ইয়াবা, ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ৪০ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ১৭ ও ১৮ জুনের ধারাবাহিক অভিযানে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৬৭ পিস ইয়াবা, ৫৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৩০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

২১ জুন পৃথক তিন অভিযানে পাঁচজনকে ১৫০ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির ৪৯ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ জুন আরও তিনজনকে দুই গ্রাম হেরোইন, ২৫ গ্রাম গাঁজা ও ১২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

জুলাইয়েও অভিযান অব্যাহত থাকে। ৩ জুলাই দুইজনকে ২০ পিস ইয়াবাসহ, ৪ জুলাই একজনকে ১৪০ পিস ইয়াবাসহ এবং ১৫ জুলাই চারজনকে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

আগস্টে অভিযানের পরিধি আরও বাড়ে। ১০ আগস্ট পৃথক চার অভিযানে পাঁচজনকে ৭৮ পিস ইয়াবা, ১১৭ পুরিয়া হেরোইন ও ৭৫ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ১২ আগস্ট দুইজনকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ এবং ১৪ আগস্ট একজনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ২৭ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট ভোর পর্যন্ত ডেন্ডাবর ও বিশমাইল এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও সাতজনকে হেরোইন ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

সেপ্টেম্বরেও অভিযান থামেনি। ১ সেপ্টেম্বর চারজনকে ১২২ পিস ইয়াবাসহ এবং ৭ সেপ্টেম্বর খেঁজুরটেক এলাকায় স্বপন হোসেন নামে এক যুবককে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও তৎপর রয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঢাকা জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা সভায় পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, গত দুই মাসে আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭৫টি মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় ১২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ১৪ জন ছিনতাইকারী ও ১২ জন চোর গ্রেপ্তারের তথ্যও জানানো হয়।

তাৎক্ষণিক অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুরোনো মামলার পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০১৮ সালের একটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. শামীম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্মতৎপরতার স্বীকৃতি হিসেবে দুই দফায় ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। মে মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পর জুলাই মাসের মূল্যায়নেও তিনি এ স্বীকৃতি পান।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সূচকে এ মূল্যায়ন করা হয়।

ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ অর্জন আশুলিয়া থানার সব পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।

মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আশুলিয়া থানা পুলিশ নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকমুক্ত আশুলিয়া গড়তে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অপরাধ দমনের পাশাপাশি থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অমায়িক ও মানবিক আচরণের বিষয়টিও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ওসি বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

পুলিশ সদস্যদের সৌজন্যমূলক আচরণ ও সহযোগিতার কারণে থানায় সেবাপ্রত্যাশীদের পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।

মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান চলছে। মাদকমুক্ত আশুলিয়া গড়তে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।