
চক্রান্তের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ, ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ নিয়েও প্রশ্ন
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার আলোচিত কিডন্যাপ মামলাকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। মামলার ঘটনাপ্রবাহে পলাশ কাজী ও সুকান্তের কথিত ভূমিকা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সুকান্তের কথিত ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পলাশ কাজী ও সুকান্তকে ঘিরে একটি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে মামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত নন—এমন কিছু মানুষও হয়রানি ও জেলভোগের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। বিশেষ করে যুবদল নেতা সোহাগ মৃধা ও সোহাগ হাওলাদারের কারাবাসের বিষয়টি সামনে এনে অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে নিরীহ ব্যক্তিদের মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে মামলার এজাহার, চার্জশিট বা আদালতের নথি, সাক্ষীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করছেন, মামলার শুরুতে পলাশ কাজীর ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে বাদী পক্ষের সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগ বা সমঝোতার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে সুকান্ত, সুমন ও সাগরের মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং ঘটনার আগে ও পরের কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
সুকান্তকে ‘দ্বৈত নাগরিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার নাগরিকত্ব সম্পর্কে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য নথিপত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন কি না, করলে সেই নাগরিকত্বের আইনি অবস্থান কী—এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মামলার দৃশ্যমান ঘটনাপ্রবাহের বাইরে কোনো নেপথ্য পরিকল্পনা বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা মামলায় আসামি হয়েছেন বা কারাভোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি ও মামলায় তাদের প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা কী ছিল—তা আদালতের নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
এদিকে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে অন্য ব্যক্তিদের সামনে আনার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের দাবি বর্তমানে অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে এবং স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে এর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
এখন মূল প্রশ্ন—ভান্ডারিয়ার আলোচিত কিডন্যাপ মামলায় পলাশ কাজী ও সুকান্তের প্রকৃত ভূমিকা কী? সোহাগ মৃধা ও সোহাগ হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী? তারা সত্যিই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, নাকি কোনো ভুল তথ্য, বিরোধ বা পরিকল্পিত চক্রান্তের কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে পলাশ কাজী, সুকান্ত, সুমন, সাগরসহ সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া এবং সরকারি নথি ও আদালতের রেকর্ড যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ‘মূল হোতা’, ‘চক্রান্তকারী’ বা ‘দ্বৈত নাগরিক’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন না করাই আইনগত ও সাংবাদিকতার দিক থেকে দায়িত্বশীল পন্থা।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 























