
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (Autism Spectrum Disorder-ASD) একটি জটিল স্নায়ুবিক বিকাশজনিত (Neurodevelopmental) অবস্থা, যা একজন ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগ, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, আচরণ ও শেখার ধরনে প্রভাব ফেলে। এটি জন্মগত বা শৈশবের শুরুতেই প্রকাশ পায় এবং সাধারণত সারাজীবন স্থায়ী হয়।
অটিজমে আক্রান্ত প্রতিটি ব্যক্তি স্বতন্ত্র। তাদের দক্ষতা, আগ্রহ, ব্যক্তিত্ব ও সহায়তার প্রয়োজন একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। বর্তমানে অটিজমের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। তবে স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, বিহেভিয়ারাল থেরাপি, বিশেষ শিক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তা একজন অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (DSM-5) অনুযায়ী, ASD-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক যোগাযোগ ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় স্থায়ী ঘাটতি এবং সীমাবদ্ধ বা পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ, আগ্রহ বা কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি। এর মধ্যে চোখের যোগাযোগ, মুখভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গি ব্যবহারে অসুবিধা, সম্পর্ক গড়ে তোলা ও বজায় রাখতে সমস্যা এবং নির্দিষ্ট অভ্যাস বা রুটিনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেখা যেতে পারে।
অটিজম কেন ‘স্পেকট্রাম’?
অটিজমকে স্পেকট্রাম বলা হয়, কারণ এর লক্ষণ ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। কেউ স্বল্প সহায়তায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, আবার কেউ দৈনন্দিন জীবনে অধিক সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন। তাই প্রতিটি অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির মূল্যায়ন ও সহায়তা পরিকল্পনা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।
বর্তমান DSM-5 অনুযায়ী Autistic Disorder, Asperger’s Disorder এবং PDD-NOS-কে আলাদা রোগ হিসেবে নয়, বরং Autism Spectrum Disorder (ASD)-এর বিভিন্ন উপস্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অটিজম স্পেকট্রামকে প্রায়ই রংধনুর প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। রংধনুর বিভিন্ন রং অটিজমে আক্রান্ত মানুষের বৈচিত্র্যময় সক্ষমতা, চাহিদা, ব্যক্তিত্ব ও সম্ভাবনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। তাই অটিজম কোনো একক বৈশিষ্ট্যের নাম নয়; এটি বৈচিত্র্যের একটি বিস্তৃত পরিসর, যেখানে প্রতিটি মানুষই অনন্য এবং সম্মান, গ্রহণযোগ্যতা ও উপযুক্ত সহায়তার অধিকারী।
ড. নাছিমা ইসলাম চৌধুরী বৃষ্টি সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 



















