
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে পৌরসভাকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও নাগরিক-বান্ধব মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অত্যন্ত কর্মঠ ও জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং পৌর প্রশাসক মো. হাসিবুল হাসান। তার নানামুখী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগে ঝিমিয়ে পড়া পৌর শহর এখন এক নতুন রূপ ধারণ করছে।
তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভান্ডারিয়া বাস স্ট্যান্ড এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
ইউএনও নিজেই মাঠে থেকে এই কাজের তদারকি করেন।
পৌরসভাকে ঢেলে সাজাতে শুধু ড্রেন পরিষ্কারই নয়, পৌর প্রশাসকের নির্দেশনায় শহরজুড়ে নিয়মিত নানামুখী জনকল্যাণমূলক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি নিজে সশরীরে দাঁড়িয়ে থেকে উপজেলা সরকারি হাসপাতাল এবং হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়ে রোগীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং স্থানীয় কাঁচাবাজারের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে পুরো শহরের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার ব্যবস্থা করেন।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় পৌর এলাকার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন পৌর প্রশাসক। খাবার হোটেলগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট রোধে এবং ভেজাল বিরোধী অভিযান ও পণ্যের গুণগত মান যাচাইয়ে শহরের বিভিন্ন দোকানে নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র রিজার্ভ পুকুরপাড়ের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এবং পথচারীদের হাঁটার পথ সুগম করতে সেখানকার ভাসমান অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের জীর্ণ ও ঘিঞ্জি দশা কেটে এলাকাটিতে এখন একটি মনোরম ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ ফিরে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে শহর দূষিত করার প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভান্ডারিয়া পৌরসভাকে একটি স্বপ্নের মডেল ও নাগরিক-বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে এই পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। তবে শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখতে প্রশাসনের একক প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, এর জন্য সর্বস্তরের নাগরিকদেরও সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসকের এমন দৃশ্যমান, গতিশীল ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভান্ডারিয়া পৌরবাসীর মনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুরো উপজেলা জুড়ে একটি আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধিঃ 



















