12:43 am, Tuesday, 2 June 2026

ফটিকছড়ি নাজিরহাট পৌরসভার সম্পত্তির বিরোধে হামলা ও ভাঙচুর, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৩নংওয়ার্ড সুয়াবিল এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এক ব্যক্তির হাত ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে থানায় মামলা গ্রহণ না করে পক্ষপাতিত্ব এবং জমি সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আচরণ নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন পরিবারটি।এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২৬ মে নাজিরহাট পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড সুয়াবিল এলাকার চুরখাঁহাট বাজার সংলগ্ন আবুল খায়ের সওদাগরের বাড়িতে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে মৃত আবদুস সালামের ছোট ছেলে মো: হাসান ও মেঝ ছেলে মো: আজিজের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

হাসানের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এ সময় তার একটি ঘর ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। হামলায় মো: হাসান গুরুতর আহত হন এবং তার একটি হাত ভেঙ্গে যায় বলে #পরিবারের সদস্যরা জানান।

পরিবারটির অভিযোগ, ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দে।তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগকারী হাসানের পক্ষের তুলনায় প্রতিপক্ষের লোকজন বেশি আহত হয়েছেন।হাসানের পরিবারকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের বিষয়ে হাসানের চাচা মো: আবু তৈয়ব অভিযোগ করেন, মো: আজিজ বিভিন্ন মহলের #প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।তৈয়ব দাবি করেন, রমজান মাসে জমি মাপজোপ সংক্রান্ত বিষয়ে অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হতে না পারায়, পরে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে চরম অপমানজনক আচরণের শিকার হন তৈয়ব এবং তাকে ধমক দিয়ে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণও
দাবি করেন তৈয়বের কাছে।এমন অভিযোগ করেন তৈয়ব।

তিনি আরো দাবি করেন ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার দাঁড়ি নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।

এদিকে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের বিষয়ে হাসানের চাচা মো: আবু তৈয়ব অভিযোগ করে বলেন, মো: আজিজ বিভিন্ন মহলের প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। তার দাবি, গত রমজান মাসে জমি মাপজোক সংক্রান্ত নির্ধারিত দিনে অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে না পারলেও পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এর কার্যালয়ে গেলে তিনি অপমানজনক আচরণের শিকার হন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১০ মিনিট পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।

#অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মো: আজিজ বলেন, তিনি কারও ওপর হামলা করেননি বরং হাসান তার ওপর আক্রমণ করেছেন। তবে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফটিকছড়ি নাজিরহাট পৌরসভার সম্পত্তির বিরোধে হামলা ও ভাঙচুর, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

ফটিকছড়ি নাজিরহাট পৌরসভার সম্পত্তির বিরোধে হামলা ও ভাঙচুর, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

Update Time : 08:57:29 am, Monday, 1 June 2026

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৩নংওয়ার্ড সুয়াবিল এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এক ব্যক্তির হাত ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে থানায় মামলা গ্রহণ না করে পক্ষপাতিত্ব এবং জমি সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আচরণ নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন পরিবারটি।এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন পরিবারটি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২৬ মে নাজিরহাট পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড সুয়াবিল এলাকার চুরখাঁহাট বাজার সংলগ্ন আবুল খায়ের সওদাগরের বাড়িতে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে মৃত আবদুস সালামের ছোট ছেলে মো: হাসান ও মেঝ ছেলে মো: আজিজের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

হাসানের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এ সময় তার একটি ঘর ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। হামলায় মো: হাসান গুরুতর আহত হন এবং তার একটি হাত ভেঙ্গে যায় বলে #পরিবারের সদস্যরা জানান।

পরিবারটির অভিযোগ, ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দে।তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগকারী হাসানের পক্ষের তুলনায় প্রতিপক্ষের লোকজন বেশি আহত হয়েছেন।হাসানের পরিবারকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের বিষয়ে হাসানের চাচা মো: আবু তৈয়ব অভিযোগ করেন, মো: আজিজ বিভিন্ন মহলের #প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন।তৈয়ব দাবি করেন, রমজান মাসে জমি মাপজোপ সংক্রান্ত বিষয়ে অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হতে না পারায়, পরে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে চরম অপমানজনক আচরণের শিকার হন তৈয়ব এবং তাকে ধমক দিয়ে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণও
দাবি করেন তৈয়বের কাছে।এমন অভিযোগ করেন তৈয়ব।

তিনি আরো দাবি করেন ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার দাঁড়ি নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।

এদিকে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের বিষয়ে হাসানের চাচা মো: আবু তৈয়ব অভিযোগ করে বলেন, মো: আজিজ বিভিন্ন মহলের প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। তার দাবি, গত রমজান মাসে জমি মাপজোক সংক্রান্ত নির্ধারিত দিনে অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে না পারলেও পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এর কার্যালয়ে গেলে তিনি অপমানজনক আচরণের শিকার হন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১০ মিনিট পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।

#অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মো: আজিজ বলেন, তিনি কারও ওপর হামলা করেননি বরং হাসান তার ওপর আক্রমণ করেছেন। তবে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।