2:34 am, Saturday, 6 June 2026

ভুজপুর বাগান বাজার ৯নং ওয়ার্ড! ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া, দুর্ভোগ চরমে

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন ১নং বাগান বাজার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড একটি অবহেলিত এলাকা। এ গ্রামে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। ৯নং ওয়ার্ডের রহমতপুর, হারবাতলী, কাপ্তলী, তাকিয়াছড়ি, নয় দোলং গ্রাম মূলত ভারত- বাংলার সীমান্ত এলাকা। এটি মূলত চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। গ্রামটি জেলার শেষপ্রান্তে হওয়ায় শুরু থেকেই অবহেলিত এ গ্রামের বাসিন্দারা।
বাগান বাজার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড এলাকাটি পানুয়া ও উত্তর উদয় পাথর গ্রাম নিয়ে গঠিত। এই গ্রামে প্রায় ৮ হাজার মানুষ বসবাস করেন। যে দলই ক্ষমতায় আসোক না কেন, তাদের প্রতিনিধিরা শুধু ভোটের সময়ই এই গ্রামে আসেন। নির্বাচন শেষে তারা উধাও হয়ে যান। এলাকার মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তাদের কোনো দেখা পান না। বাগান বাজার ইউনিয়ন হতে ওই এলাকার দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই ৯নং ওয়ার্ডের অনেক গুলো গ্রাম সাধারণ মানুষ । এমনকি নেই বিশুদ্ধ পানির সুবিধাও। তারা পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা।
নেই বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ- কালভার্ট। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় চলাচল করতে হয়। এ গ্রামে কোনো স্কুল নেই। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য অভিভাবকদের দূরবর্তী পানুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর ভরসা করতে হয়। দূরত্বের কারণে অনেক ছেলেমেয়ে প্রাথমিক পর্যায়েই ঝরে পড়ে। সুচিকিৎসার জন্য কোন ডাক্তারি সুবিধা নেই। ওই গ্রামের প্রতিটি লোক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। কমিউনিটি ক্লিনিকে চাহিদামতো ওষুধ পাওয়া যায় না। শিশু ও মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা জন্য ২-৩ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা রামগড় অথবা ফটিকছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়।
এই এলাকার মানুষ মূলত গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি লালন-পালন, কৃষিকাজ ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু রাস্তা না থাকায় গ্রামের মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ যাবতীয় সবকিছু বাজারজাত করতে শহরে নিতে পারছেন না।
গ্রামটি পল্লীবিদ্যুতের আওতাধীন হলেও অনেকের বাড়িতেই বিদ্যুৎ নেই। এই গ্রামের মানুষ গুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধুমাত্র জন্ম নিবন্ধন এবং চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট ছাড়া অন্য কোন সুবিধা পায় না। নির্বাচন আসলেই জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। বছরের পর বছর চলে গেলেও কোন উন্নয়ন নাই ওই এলাকায়।
ওই এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানাই, আমরা গরিব মানুষ। দুর্গম পাহাড়ে থাকি গরু-ছাগল লালন-পালন করেই আমাদের জীবন চলে। আমরা সরকারি কোনো অনুদান বা সুযোগ-সুবিধাই পাই না। অসুস্থ হলে স্বাস্থ্যসেবা পাই না। রাস্তাঘাট নেই। ভোটের সময় এলে অনেকেই অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটের পর তাদের আর দেখা যায় না। বৃষ্টি হলে রাস্তায় চলতে পারি না।
ওই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি, কাঁচা রাস্তা ফাকা করা, বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা, অতি প্রয়োজনীয় স্থানে ব্রিজ -কালভার্ট নির্মাণ, একটি ভালো মানের কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, মোবাইল নেটওয়ার্কের জন্য একটা মোবাইল টাওয়ার স্থাপন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

ভুজপুর বাগান বাজার ৯নং ওয়ার্ড! ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া, দুর্ভোগ চরমে

Update Time : 11:17:50 pm, Friday, 5 June 2026

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন ১নং বাগান বাজার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড একটি অবহেলিত এলাকা। এ গ্রামে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। ৯নং ওয়ার্ডের রহমতপুর, হারবাতলী, কাপ্তলী, তাকিয়াছড়ি, নয় দোলং গ্রাম মূলত ভারত- বাংলার সীমান্ত এলাকা। এটি মূলত চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। গ্রামটি জেলার শেষপ্রান্তে হওয়ায় শুরু থেকেই অবহেলিত এ গ্রামের বাসিন্দারা।
বাগান বাজার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড এলাকাটি পানুয়া ও উত্তর উদয় পাথর গ্রাম নিয়ে গঠিত। এই গ্রামে প্রায় ৮ হাজার মানুষ বসবাস করেন। যে দলই ক্ষমতায় আসোক না কেন, তাদের প্রতিনিধিরা শুধু ভোটের সময়ই এই গ্রামে আসেন। নির্বাচন শেষে তারা উধাও হয়ে যান। এলাকার মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তাদের কোনো দেখা পান না। বাগান বাজার ইউনিয়ন হতে ওই এলাকার দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই ৯নং ওয়ার্ডের অনেক গুলো গ্রাম সাধারণ মানুষ । এমনকি নেই বিশুদ্ধ পানির সুবিধাও। তারা পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা।
নেই বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ- কালভার্ট। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় চলাচল করতে হয়। এ গ্রামে কোনো স্কুল নেই। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য অভিভাবকদের দূরবর্তী পানুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর ভরসা করতে হয়। দূরত্বের কারণে অনেক ছেলেমেয়ে প্রাথমিক পর্যায়েই ঝরে পড়ে। সুচিকিৎসার জন্য কোন ডাক্তারি সুবিধা নেই। ওই গ্রামের প্রতিটি লোক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। কমিউনিটি ক্লিনিকে চাহিদামতো ওষুধ পাওয়া যায় না। শিশু ও মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা জন্য ২-৩ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা রামগড় অথবা ফটিকছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়।
এই এলাকার মানুষ মূলত গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি লালন-পালন, কৃষিকাজ ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু রাস্তা না থাকায় গ্রামের মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ যাবতীয় সবকিছু বাজারজাত করতে শহরে নিতে পারছেন না।
গ্রামটি পল্লীবিদ্যুতের আওতাধীন হলেও অনেকের বাড়িতেই বিদ্যুৎ নেই। এই গ্রামের মানুষ গুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধুমাত্র জন্ম নিবন্ধন এবং চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট ছাড়া অন্য কোন সুবিধা পায় না। নির্বাচন আসলেই জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। বছরের পর বছর চলে গেলেও কোন উন্নয়ন নাই ওই এলাকায়।
ওই এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানাই, আমরা গরিব মানুষ। দুর্গম পাহাড়ে থাকি গরু-ছাগল লালন-পালন করেই আমাদের জীবন চলে। আমরা সরকারি কোনো অনুদান বা সুযোগ-সুবিধাই পাই না। অসুস্থ হলে স্বাস্থ্যসেবা পাই না। রাস্তাঘাট নেই। ভোটের সময় এলে অনেকেই অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটের পর তাদের আর দেখা যায় না। বৃষ্টি হলে রাস্তায় চলতে পারি না।
ওই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি, কাঁচা রাস্তা ফাকা করা, বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা, অতি প্রয়োজনীয় স্থানে ব্রিজ -কালভার্ট নির্মাণ, একটি ভালো মানের কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, মোবাইল নেটওয়ার্কের জন্য একটা মোবাইল টাওয়ার স্থাপন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ।