7:56 pm, Saturday, 13 June 2026

পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রবাসী নারীর মাছের ঘেরের ঘরে আগুন

পিরোজপুরে নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে কুমারখালী বানিয়ারি ও চিতলমারী বর্ডার এলাকার প্রবাসী নারীর মাছের ঘেরের ঘরে আগুন দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। শুক্রবার গভীর রাতে মাছের ঘেরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ করেন প্রবাসী নারীর মেয়ে হালিমা আক্তার মনি।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে কুমারখালী বানিয়ারি ও চিতলমারী বর্ডার এলাকার শুক্রবার গভীর রাতে প্রবাসী নারীর বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাছের ঘেরের ঘরটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ঘরের ভিতরে থাকা মাছের খাবার ও কৃষি কাজের সরঞ্জামাদি সহ ঘরটি পুড়ে ভূষ্মীভূত হয়ে যায়।

প্রবাসী নারীর মেয়ে হালিমা আক্তার মনি বলেন, আমার মা দশ বছর ধরে প্রবাসে থাকেন আমি আমার মেয়েকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে থাকি। আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকজন লোক দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ক্ষতি করার পাঁয়তারা করে আসছে। বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে টাকা দাবি করে আসছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় আমাদের ঘরের মাছ ধরে নিয়ে যায় গাছ কেটে ফেলে। বর্তমানে আমাদের হেরে থাকা একমাত্র ঘরটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাই।

মাছের ঘেরের পরিচালক দুলু সেট জানান, গতকাল রাতে ঘরটিতে থাকা জিনিসপত্রসহ আগুন দিয়ে ঘরটি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয়দের জানিয়েছি। নারীর মেয়ে হালিমা আক্তার মনি সহ তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মাটিভাংগা ইউনিয়নের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, ঘেরটি চিতলমারী ও নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের বর্ডার এলাকায় আমাদের বাড়ির পাশেই অবস্থিত। আমরা গভীর রাতে ডাকাডাকি শব্দ শুনে এসে দেখি ঘরটি আগুনে পুরোপুরি পুড়ে গেছে। পার্শ্ববর্তীদের সাথে প্রবাসী নারী লাকিয়া বেগমের পরিবারের সাথে বিরোধ রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উজ্জ্বল মোল্লা সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে লাকিয়া বেগমের ম্যানেজার দুলু আমাদের ছয়টি আম গাছ কেটে ফেলেছে। এ বিষয়ে আমরা অভিযোগ করেছি। আগুনের ঘটনাটি কোন তৃতীয় পক্ষ ঘটাতে পারে।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই মাছের ঘেরটি চিতলমারি এলাকার মধ্যে পড়ায় চিতলমারি থানা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে। এটি নাজিরপুর থানার আওতাভুক্ত নয়।

চিতলমারী থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রানাভোলা ৩ নম্বর রোডে বরকত এর অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রবাসী নারীর মাছের ঘেরের ঘরে আগুন

Update Time : 10:49:37 pm, Saturday, 6 June 2026

পিরোজপুরে নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে কুমারখালী বানিয়ারি ও চিতলমারী বর্ডার এলাকার প্রবাসী নারীর মাছের ঘেরের ঘরে আগুন দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। শুক্রবার গভীর রাতে মাছের ঘেরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ করেন প্রবাসী নারীর মেয়ে হালিমা আক্তার মনি।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে কুমারখালী বানিয়ারি ও চিতলমারী বর্ডার এলাকার শুক্রবার গভীর রাতে প্রবাসী নারীর বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাছের ঘেরের ঘরটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ঘরের ভিতরে থাকা মাছের খাবার ও কৃষি কাজের সরঞ্জামাদি সহ ঘরটি পুড়ে ভূষ্মীভূত হয়ে যায়।

প্রবাসী নারীর মেয়ে হালিমা আক্তার মনি বলেন, আমার মা দশ বছর ধরে প্রবাসে থাকেন আমি আমার মেয়েকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে থাকি। আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকজন লোক দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ক্ষতি করার পাঁয়তারা করে আসছে। বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে টাকা দাবি করে আসছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় আমাদের ঘরের মাছ ধরে নিয়ে যায় গাছ কেটে ফেলে। বর্তমানে আমাদের হেরে থাকা একমাত্র ঘরটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাই।

মাছের ঘেরের পরিচালক দুলু সেট জানান, গতকাল রাতে ঘরটিতে থাকা জিনিসপত্রসহ আগুন দিয়ে ঘরটি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয়দের জানিয়েছি। নারীর মেয়ে হালিমা আক্তার মনি সহ তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মাটিভাংগা ইউনিয়নের সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, ঘেরটি চিতলমারী ও নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের বর্ডার এলাকায় আমাদের বাড়ির পাশেই অবস্থিত। আমরা গভীর রাতে ডাকাডাকি শব্দ শুনে এসে দেখি ঘরটি আগুনে পুরোপুরি পুড়ে গেছে। পার্শ্ববর্তীদের সাথে প্রবাসী নারী লাকিয়া বেগমের পরিবারের সাথে বিরোধ রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উজ্জ্বল মোল্লা সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে লাকিয়া বেগমের ম্যানেজার দুলু আমাদের ছয়টি আম গাছ কেটে ফেলেছে। এ বিষয়ে আমরা অভিযোগ করেছি। আগুনের ঘটনাটি কোন তৃতীয় পক্ষ ঘটাতে পারে।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই মাছের ঘেরটি চিতলমারি এলাকার মধ্যে পড়ায় চিতলমারি থানা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে। এটি নাজিরপুর থানার আওতাভুক্ত নয়।

চিতলমারী থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।