
রাজধানী ঢাকার প্রাণ কেন্দ্র পল্টন এলাকার মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ পাইকারি বিলেতি মদ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি বিষয় টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছে মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ বিগত বছরে নূনতম ১৫(পনের) কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে চলতি বছরে নূনতম ১৮(আঠারো) কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকার একমাত্র বেসরকারি বিলেতি মদ পাইকারি বিক্রেতা মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ বিগত ১৯৯০ সালে পাইকারি বিলেতি মদ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এর জন্য লাইসেন্স এর আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালে পাইকারি বিলেতি মদ বিক্রেতা হিসেবে খোলা মদ / বিয়ার বিক্রি করবেন না শর্তে লাইসেন্স পান। যার লাইসেন্স নম্বর ১৭৮-৫০/৯০-৯১,
লাইসেন্স প্রাপ্তির পর থেকে কেরু এন্ড কোং থেকে বিলেতি মদ উত্তোলন করে নিজেদের সেলস সেন্টার থেকে সরাসরি পারমিট ধারি ক্রেতা ও বিভিন্ন বারে বিলেতি মদ ও বিয়ার বিক্রি করে আসছে। মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ
ঢাকা দক্ষিণ এর ভ্যাট সার্কেল এর বিজয়নগর কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করলে সুপার ইনটেন্টডেন্ট কে অফিসে পাওয়া যায় নি, কর্তব্য রত ইন্সপেক্টর এর সাথে কথা বলে মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ এর ভ্যাট প্রদান করার তথ্য জানতে চাইলে তিনি জানান ভ্যাট আইনের ৮৯ ধারা মোতাবেক গ্রাহকের স্পর্শকাতর তথ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ সুতরাং কোন ধরনের তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিয়ে এবং মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ এর সেলস সেন্টারে কয়েক বার যাওয়ার পরে সেলস সেন্টারে কর্মরত একজন দায়িত্ব শীল লোক জানান ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট সার্কেল এর বিজয়নগর অফিসে প্রতিমাসে গড়ে লক্ষাধিক টাকার ঘুষ দেন তারা। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে জানা যায় মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ ২০২১ সালে ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন করেন যার নম্বর -০০২৩৫৬০৪১-০২০৮, প্রথম ভ্যাট প্রদান করেন ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অন লাইনে ভ্যাট প্রদান করেন যার পরিমাণ ১৫৪১৯৪ টাকা। মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ এর সেলস সেন্টার থেকে জেনারেল ম্যানেজার জানান বিগত আগস্ট মাসে ওনারা ২৩২০০০ টাকার মতো ভ্যাট পরিশোধ করেছেন। আর তথ্য অনুসন্ধানের জন্য আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি কেরু এন্ড কোং কে তথ্য আইনে মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ এর বিগত এক বছর পহেলা জুন ২০২৫ থেকে চলতি জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট উত্তোলন করা মদের পরিমাণ জানতে আবেদন করেন। কেরু এন্ড কোং বিক্রয় বিভাগ থেকে লিখিত ভাবে জানানো হয় ০১/০৬/২৬ থেকে ৯৪/০৬/২০২৬ পর্যন্ত এক বছরের মধ্যে ৭১৫৯৬ কেস মদ কেরু এন্ড কোং থেকে উত্তোলন করেছে মেসার্স এম মোস্তাক আহমেদ। বিগত এক বছরে কেরু এন্ড কোং বিক্রয় মূল্য পরিশোধ করার সাথে সাথে সাড়ে সাত শতাংশ ক্রয় মূল্য সংযোজন কর বাবদ সাড়ে চোদ্দ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট পরিশোধ করেছেন। এখন বিক্রি করার সময় লভ্যাংশ যোগ করে সাড়ে সাত শতাংশ বিক্রয় ভ্যাট পরিশোধ করার আইন গত নিয়ম থাকলেও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কে ম্যানেজ করে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন। শুধু মাত্র কেরু এন্ড কোম্পানির সাথে হওয়া লেনদেন হতে এই পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এম মোস্তাক আহমেদ হান্টার বিয়ারের ও পাইকারি বিক্রেতা। তাদের সেলস সেন্টার থেকে হান্টার বিয়ারের কেস মদ এর সাথে সাথে ডেলিভারি দিতে দেখা গিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রতিবছর লক্ষাধীক কেস হান্টার বিয়ারের কেস এরা বিক্রি করে। হান্টার বিয়ারের উৎপাদক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সঠিক তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এম মোস্তাক আহমেদ এর সেলস ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার বিষয়ে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে একজন অভিযোগ কারি জানিয়েছেন কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পরে ও ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজানা কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন। সামান্য ১/২ লাখ টাকার ঘুষের বিনিময়ে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ( অব) সংসদে আক্ষেপ করে বলেছেন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অধিকাংশই চোর।
বিশেষ প্রতিনিধি 
























