2:21 pm, Wednesday, 28 October 2026

তরুণীর ভয়ঙ্কর হানি ট্র্যাপ,প্রবাসী এক প্রেমিক হারিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে অপরাধের ধরন। ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সুযোগ নিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদ এখন সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অন্যতম লাভজনক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংকার, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল, অপহরণ এবং অর্থ আদায়ের অসংখ্য ঘটনা সামনে এসেছে।৷
সৌন্দর্য আর মিষ্টি কথাকেই যেন হাতিয়ার বানিয়েছেন বাঘেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার, সোনাতুনিয়া গ্রামের । পিতা : নুর মুহাম্মাদ শেখএর মেয়, প্রকৃত নাম আমেনা খাতুন, ঢাকায় তার নাম: মেহজাবিন মুসকান। প্রেম কিংবা বিয়ের প্রতিশ্রুতির মোড়কে তরুণ-যুবক এবং বয়স্কদের, সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর সেই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিদেশি নাগরিক—কেউই বাদ পড়েননি তার টার্গেটের তালিকা থেকে।
এ বিষয় এক প্রবাসী ভুক্তভোগির স্ত্রী মুসকানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগীর তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ইমো, বিগো লাইভ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে পরিচয় ও বন্ধুত্ব তৈরি করতেন মুসকান । ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক গড়াত ঘনিষ্ঠতায় এমনকি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করে, এরপর নানা অজুহাতে অর্থ ও দামি উপহার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মেহজাবিন মুসকান, বর্তমানে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোন এলাকায়, Baridhara Diplomatic Zone, Road-2, House-4 এ বসবাস করছেন।
মেহজাবিন মুসকান, এমন অভিযোগের শিকার হয়েছেন কানাডা প্রবাসে মামুন তিনি বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। বিগো অ্যাপে ফেসবুকের মাধ্যমে, তাদের পরিচয় হয়। পরে তা বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাসে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করে , নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, এসি, আইফোনসহ বিভিন্ন দামি সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।এবং মামুনকে ব্ল্যাকমেলের স্বীকার করে প্রতি মাসে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের একটি অর্থ এ মামুন বউ বাচ্চাকেও মানসিক হয়রানি করে আসছেন এই মুসকান।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে আরও কয়েকজন তরুণ – যুবক ও বয়স্ক ব্যক্তিদের, সঙ্গে মুসকানের
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য সামনে এসেছে। তার হাতে আসা কিছু ছবি ও ভিডিওতেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মুসকানকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
এবং মুসকান এবং তার সহযোগী মৌমিতা একই ফিল্ডে থাকেন, কোন জব না করে প্রতিমাসে তিন লাখ টাকা বাসা ভাড়া এবং মার্সিডিজ গাড়ি ব্যবহার করে, কিভাবে জীবন যাপন করছেন এই তরুণী। তারের টাকার আয়ের উৎস কোথায়।
এ বিষয়ে মুসকানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনের সুইচ অফ করে দেন।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে অর্থ, উপহার কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। আবেগ ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কেউ প্রতারণার ফাঁদে পড়লে ক্ষতির পরিমাণ অনেক সময় বড় হয়ে যায়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং আর্থিক লেনদেনে বিশেষ সাবধানতা জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কেশবপুরে দুঃস্থ, অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে বিশেষ অনুদান প্রদান

তরুণীর ভয়ঙ্কর হানি ট্র্যাপ,প্রবাসী এক প্রেমিক হারিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

Update Time : 08:41:40 pm, Saturday, 26 September 2026

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে অপরাধের ধরন। ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সুযোগ নিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদ এখন সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অন্যতম লাভজনক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংকার, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল, অপহরণ এবং অর্থ আদায়ের অসংখ্য ঘটনা সামনে এসেছে।৷
সৌন্দর্য আর মিষ্টি কথাকেই যেন হাতিয়ার বানিয়েছেন বাঘেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার, সোনাতুনিয়া গ্রামের । পিতা : নুর মুহাম্মাদ শেখএর মেয়, প্রকৃত নাম আমেনা খাতুন, ঢাকায় তার নাম: মেহজাবিন মুসকান। প্রেম কিংবা বিয়ের প্রতিশ্রুতির মোড়কে তরুণ-যুবক এবং বয়স্কদের, সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর সেই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিদেশি নাগরিক—কেউই বাদ পড়েননি তার টার্গেটের তালিকা থেকে।
এ বিষয় এক প্রবাসী ভুক্তভোগির স্ত্রী মুসকানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগীর তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ইমো, বিগো লাইভ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে পরিচয় ও বন্ধুত্ব তৈরি করতেন মুসকান । ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক গড়াত ঘনিষ্ঠতায় এমনকি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করে, এরপর নানা অজুহাতে অর্থ ও দামি উপহার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মেহজাবিন মুসকান, বর্তমানে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোন এলাকায়, Baridhara Diplomatic Zone, Road-2, House-4 এ বসবাস করছেন।
মেহজাবিন মুসকান, এমন অভিযোগের শিকার হয়েছেন কানাডা প্রবাসে মামুন তিনি বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। বিগো অ্যাপে ফেসবুকের মাধ্যমে, তাদের পরিচয় হয়। পরে তা বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাসে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করে , নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, এসি, আইফোনসহ বিভিন্ন দামি সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।এবং মামুনকে ব্ল্যাকমেলের স্বীকার করে প্রতি মাসে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের একটি অর্থ এ মামুন বউ বাচ্চাকেও মানসিক হয়রানি করে আসছেন এই মুসকান।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে আরও কয়েকজন তরুণ – যুবক ও বয়স্ক ব্যক্তিদের, সঙ্গে মুসকানের
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য সামনে এসেছে। তার হাতে আসা কিছু ছবি ও ভিডিওতেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মুসকানকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
এবং মুসকান এবং তার সহযোগী মৌমিতা একই ফিল্ডে থাকেন, কোন জব না করে প্রতিমাসে তিন লাখ টাকা বাসা ভাড়া এবং মার্সিডিজ গাড়ি ব্যবহার করে, কিভাবে জীবন যাপন করছেন এই তরুণী। তারের টাকার আয়ের উৎস কোথায়।
এ বিষয়ে মুসকানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনের সুইচ অফ করে দেন।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে অর্থ, উপহার কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। আবেগ ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কেউ প্রতারণার ফাঁদে পড়লে ক্ষতির পরিমাণ অনেক সময় বড় হয়ে যায়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং আর্থিক লেনদেনে বিশেষ সাবধানতা জরুরি।