3:21 pm, Wednesday, 28 October 2026

ভাণ্ডারিয়ায় ১৫১ নম্বর আতরখালী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৪৫ শিক্ষার্থীর তালিকায় থাকলেও উপস্থিত ৬ জন

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ১৫১ নম্বর আতরখালী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ শিক্ষার্থীর সরকারি তালিকা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন তিনজন। শিক্ষার্থীর স্বল্প উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ও কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে একজন, দুজন ও তিনজন করে শিক্ষার্থী বসে আছে। এ সময় তিনজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চন্দ্র রায়কে অফিসকক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের সরকারি তালিকায় ৪৫ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও ওইদিন উপস্থিত ছিল মাত্র ছয়জন। বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চন্দ্র রায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ধীরাংশু কুমার বৈরাগী বলেন, তাঁর বাবা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেছেন। তবে তাঁকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত কার্যক্রম নেই এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চন্দ্র রায় নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ফান্ডে প্রায় এক লাখ টাকা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তা উত্তোলন করেছেন। এসব বিষয়ে তিনি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির বাসিন্দা সুভাষ বৈরাগী বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেন না এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এসে ঘুমান।

অভিযোগের বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কেশবপুরে দুঃস্থ, অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে বিশেষ অনুদান প্রদান

ভাণ্ডারিয়ায় ১৫১ নম্বর আতরখালী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৪৫ শিক্ষার্থীর তালিকায় থাকলেও উপস্থিত ৬ জন

Update Time : 04:17:16 pm, Thursday, 24 September 2026

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ১৫১ নম্বর আতরখালী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ শিক্ষার্থীর সরকারি তালিকা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন তিনজন। শিক্ষার্থীর স্বল্প উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ও কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে একজন, দুজন ও তিনজন করে শিক্ষার্থী বসে আছে। এ সময় তিনজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চন্দ্র রায়কে অফিসকক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের সরকারি তালিকায় ৪৫ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও ওইদিন উপস্থিত ছিল মাত্র ছয়জন। বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চন্দ্র রায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ধীরাংশু কুমার বৈরাগী বলেন, তাঁর বাবা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেছেন। তবে তাঁকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত কার্যক্রম নেই এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চন্দ্র রায় নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ফান্ডে প্রায় এক লাখ টাকা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তা উত্তোলন করেছেন। এসব বিষয়ে তিনি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির বাসিন্দা সুভাষ বৈরাগী বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেন না এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এসে ঘুমান।

অভিযোগের বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পুলক চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।