1:31 pm, Saturday, 12 September 2026

ভাণ্ডারিয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙ্গারি মালামাল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা হওয়ার পর ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম (৩৫) বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিরোখালী গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ভাঙ্গারি মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে সুমন নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওভারব্রিজ এলাকায় যান আসাদুল। সেখানে পৌঁছে সুমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে সাগর নামের এক ব্যক্তিকে তাঁর কাছে পাঠান। পরে সাগর গোডাউনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাঁকে ধাওয়া এলাকার ‘গোড়াখাল’ নামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন আসাদুল।

আসাদুলের দাবি, সেখানে পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ফেলেন। স্থানীয় দোকানদারদের কাছে সাহায্য চাইলে তাঁকে মারধর করে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে মশিউর রহমান টিটু হাওলাদারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, পাঁচটি ব্যাংক চেক, দুটি এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকাশ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, নগদ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া জোরপূর্বক সিটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডের পিন নম্বর আদায় করে একটি এটিএম বুথ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আসাদুল। সব মিলিয়ে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি স্মার্টফোন হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

আসাদুল আরও অভিযোগ করেন, জিম্মি অবস্থায় তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেখানে অবৈধ মালামালের ছবি পাঠানো হয় এবং এসব ছবি ব্যবহার করে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়।

ঘটনার পর মুক্ত হয়ে প্রথমে স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানান আসাদুল। পরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

ভাণ্ডারিয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

Update Time : 10:36:16 am, Thursday, 10 September 2026

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ভাঙ্গারি মালামাল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা হওয়ার পর ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম (৩৫) বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিরোখালী গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ভাঙ্গারি মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে সুমন নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওভারব্রিজ এলাকায় যান আসাদুল। সেখানে পৌঁছে সুমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে সাগর নামের এক ব্যক্তিকে তাঁর কাছে পাঠান। পরে সাগর গোডাউনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাঁকে ধাওয়া এলাকার ‘গোড়াখাল’ নামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন আসাদুল।

আসাদুলের দাবি, সেখানে পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ফেলেন। স্থানীয় দোকানদারদের কাছে সাহায্য চাইলে তাঁকে মারধর করে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে মশিউর রহমান টিটু হাওলাদারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, পাঁচটি ব্যাংক চেক, দুটি এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নগদ ২২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকাশ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, নগদ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া জোরপূর্বক সিটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডের পিন নম্বর আদায় করে একটি এটিএম বুথ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আসাদুল। সব মিলিয়ে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি স্মার্টফোন হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

আসাদুল আরও অভিযোগ করেন, জিম্মি অবস্থায় তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেখানে অবৈধ মালামালের ছবি পাঠানো হয় এবং এসব ছবি ব্যবহার করে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়।

ঘটনার পর মুক্ত হয়ে প্রথমে স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানান আসাদুল। পরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।