2:57 pm, Saturday, 12 September 2026

টেকসই কর্মসংস্থান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর : মাহদী আমিন

দেশে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি টেকসই, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’

আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত ‘কাজের ভবিষ্যৎ: সকলের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষা’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘আগামী দিনের বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যেন তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনধারণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে কলকারখানা যেন বন্ধ না হয়, সেজন্য মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক এবং স্থিতিশীল শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কারখানা বন্ধ না রেখে তা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

কর্মক্ষেত্রের সার্বিক পরিবেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এমন একটি ‘ওয়ার্কিং ইকোসিস্টেম’ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কর্মক্ষেত্র হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই- যা দেশের ভেতরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা হলো—‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, এটিই বর্তমান সরকার পরিচালনার মূল চেতনা।’

নারীর অর্থনৈতিক অবদানের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, তৈরি পোশাক খাতসহ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন আরও সুদৃঢ় করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড স্কিম’-এর মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ ও উপযুক্ত ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তরুণ সমাজের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অতীত শ্রম আইনের নানা জটিলতা নিরসন করে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের জবাবদিহিতা ও গত সাত মাসের সাফল্য তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার শতভাগ জনবান্ধব। ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং সেই জনগণের একটি বড় অংশই শ্রমজীবী মানুষ। বিগত সাত মাসে ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার মানবাধিকার রক্ষা, বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বন্ধ কারখানা চালু ও নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ঈদের সময় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে যে দুর্ভোগ হতো, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপে গত দুটি ঈদে শ্রমিকদের পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করা গেছে।

সিম্পোজিয়ামে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিলসের মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদসহ শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

টেকসই কর্মসংস্থান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর : মাহদী আমিন

Update Time : 06:57:15 am, Saturday, 5 September 2026

দেশে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি টেকসই, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’

আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত ‘কাজের ভবিষ্যৎ: সকলের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষা’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘আগামী দিনের বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যেন তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনধারণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে কলকারখানা যেন বন্ধ না হয়, সেজন্য মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক এবং স্থিতিশীল শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কারখানা বন্ধ না রেখে তা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

কর্মক্ষেত্রের সার্বিক পরিবেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এমন একটি ‘ওয়ার্কিং ইকোসিস্টেম’ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কর্মক্ষেত্র হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই- যা দেশের ভেতরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা হলো—‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, এটিই বর্তমান সরকার পরিচালনার মূল চেতনা।’

নারীর অর্থনৈতিক অবদানের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, তৈরি পোশাক খাতসহ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন আরও সুদৃঢ় করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড স্কিম’-এর মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ ও উপযুক্ত ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তরুণ সমাজের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অতীত শ্রম আইনের নানা জটিলতা নিরসন করে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের জবাবদিহিতা ও গত সাত মাসের সাফল্য তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার শতভাগ জনবান্ধব। ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং সেই জনগণের একটি বড় অংশই শ্রমজীবী মানুষ। বিগত সাত মাসে ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার মানবাধিকার রক্ষা, বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বন্ধ কারখানা চালু ও নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে ঈদের সময় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে যে দুর্ভোগ হতো, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপে গত দুটি ঈদে শ্রমিকদের পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করা গেছে।

সিম্পোজিয়ামে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিলসের মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদসহ শীর্ষস্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।