5:05 pm, Monday, 24 August 2026

মফস্বল সাংবাদিকদের ঐক্যের লড়াইয়ে আহমেদ আবু জাফর দেড় দশকের সাংগঠনিক পথচলায় অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার দাবি

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছেন মফস্বল সাংবাদিকরা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা করেই তাঁরা সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। এই সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে কাজ করে আসছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।

বিএমএসএফের কার্যক্রম ও বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মফস্বল সাংবাদিকদের সংগঠিত করা, তাঁদের পেশাগত দাবি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান গড়ে তোলাই তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান দিক। সংগঠনটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ১৫ বছরে পদার্পণের কথা জানিয়েছে।

তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ

দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার চেষ্টা করে আসছে বিএমএসএফ। ২০১৩ সালের একটি প্রকাশিত লেখাতেও সংগঠনটিকে মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকদের জাতীয় সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য এবং পেশাগত দক্ষতা ও অধিকার নিয়ে কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নির্যাতন-হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান—এসব বিষয় সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান

মফস্বল সাংবাদিকদের অন্যতম বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা। সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলা, হামলা, হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে অনেক সাংবাদিকের।

বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও চাপ প্রয়োগের প্রতিবাদে আহমেদ আবু জাফর বক্তব্য দিয়েছেন। ২০২৬ সালের জুনেও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও চাপ প্রয়োগের সমালোচনা করেন তিনি।

এ ছাড়া সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তিনি সাংবাদিক সুরক্ষা আইনকে সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

পেশাগত অধিকার নিয়ে সোচ্চার

মফস্বল সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি জাতীয় আলোচনায় রাখার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে বিএমএসএফ। এর আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আইন সংশোধন এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষার দাবি তোলা হয়েছিল।

সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রশ্নও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি জানান তিনি।

ঐক্যের ওপর গুরুত্ব

আহমেদ আবু জাফরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মফস্বল সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা। তাঁর বক্তব্য ও সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের দল-মত ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দেখা যায়।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিএমএসএফের সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের উদ্যোগও সেই ধারার অংশ। ২০২৬ সালেও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির নতুন কমিটি অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

দেড় দশকের সাংগঠনিক পথচলায় বিএমএসএফ মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেও সংগঠনটির সামনে ভবিষ্যতে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহি এবং সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয়গুলোকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

মফস্বল সাংবাদিকদের বাস্তবতা বিবেচনায় তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য পারিশ্রমিক, প্রশিক্ষণ, আইনগত সহায়তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবিও আরও জোরালোভাবে সামনে আনার সুযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, মফস্বল সাংবাদিকদের সংগঠিত করা এবং তাঁদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসার কারণে আহমেদ আবু জাফরের সাংগঠনিক পথচলা মফস্বল সাংবাদিকতার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

মফস্বল সাংবাদিকদের শক্তি তাঁদের কলমে। আর সেই কলমের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।

দীর্ঘায়ু হোন আহমেদ আবু জাফর।

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা
সাবেক সভাপতি
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, বরগুনা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তালাশ টিমের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের বিরুদ্ধে ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ারের সংবাদ সম্মেলন ও তীব্র প্রতিবাদ

মফস্বল সাংবাদিকদের ঐক্যের লড়াইয়ে আহমেদ আবু জাফর দেড় দশকের সাংগঠনিক পথচলায় অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার দাবি

Update Time : 09:59:29 am, Sunday, 16 August 2026

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছেন মফস্বল সাংবাদিকরা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা করেই তাঁরা সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। এই সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে কাজ করে আসছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।

বিএমএসএফের কার্যক্রম ও বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মফস্বল সাংবাদিকদের সংগঠিত করা, তাঁদের পেশাগত দাবি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান গড়ে তোলাই তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান দিক। সংগঠনটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ১৫ বছরে পদার্পণের কথা জানিয়েছে।

তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ

দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার চেষ্টা করে আসছে বিএমএসএফ। ২০১৩ সালের একটি প্রকাশিত লেখাতেও সংগঠনটিকে মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকদের জাতীয় সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য এবং পেশাগত দক্ষতা ও অধিকার নিয়ে কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নির্যাতন-হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান—এসব বিষয় সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান

মফস্বল সাংবাদিকদের অন্যতম বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা। সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলা, হামলা, হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে অনেক সাংবাদিকের।

বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও চাপ প্রয়োগের প্রতিবাদে আহমেদ আবু জাফর বক্তব্য দিয়েছেন। ২০২৬ সালের জুনেও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও চাপ প্রয়োগের সমালোচনা করেন তিনি।

এ ছাড়া সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তিনি সাংবাদিক সুরক্ষা আইনকে সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

পেশাগত অধিকার নিয়ে সোচ্চার

মফস্বল সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি জাতীয় আলোচনায় রাখার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে বিএমএসএফ। এর আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আইন সংশোধন এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষার দাবি তোলা হয়েছিল।

সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রশ্নও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি জানান তিনি।

ঐক্যের ওপর গুরুত্ব

আহমেদ আবু জাফরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মফস্বল সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা। তাঁর বক্তব্য ও সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের দল-মত ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দেখা যায়।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিএমএসএফের সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তারের উদ্যোগও সেই ধারার অংশ। ২০২৬ সালেও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির নতুন কমিটি অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

দেড় দশকের সাংগঠনিক পথচলায় বিএমএসএফ মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেও সংগঠনটির সামনে ভবিষ্যতে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহি এবং সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয়গুলোকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

মফস্বল সাংবাদিকদের বাস্তবতা বিবেচনায় তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য পারিশ্রমিক, প্রশিক্ষণ, আইনগত সহায়তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবিও আরও জোরালোভাবে সামনে আনার সুযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, মফস্বল সাংবাদিকদের সংগঠিত করা এবং তাঁদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসার কারণে আহমেদ আবু জাফরের সাংগঠনিক পথচলা মফস্বল সাংবাদিকতার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

মফস্বল সাংবাদিকদের শক্তি তাঁদের কলমে। আর সেই কলমের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।

দীর্ঘায়ু হোন আহমেদ আবু জাফর।

জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা
সাবেক সভাপতি
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, বরগুনা