3:49 pm, Monday, 24 August 2026

মৃত সাংবাদিক পরিবারের হাতে সহায়তার চেক, বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

137

স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীর তথ্য ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান হাবীব এবং রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুল হক মজু।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমানে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বর্তমান সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে গণমাধ্যম কখনো এতটা স্বাধীনতা ভোগ করেনি।
তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যেন অপসাংবাদিকতা, মিথ্যা সংবাদ কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এ ধরনের অপসংস্কৃতি রোধ করা প্রয়োজন।
রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল কাজ জনগণের সেবা করা। আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে বিগত সময়ে যারা সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে এবং গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সহযোগী হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতেও এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশনের মহতী উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উচিত সাংবাদিকদের সম্মান করা এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতাকে আধুনিক শ্রম ও শিল্প আইনের আওতায় এনে পেশাটিকে একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের মধ্যেও আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো পুরো সাংবাদিক সমাজের মানবিক দায়িত্ব। সাংবাদিকদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় হামলা, হয়রানি, মামলা ও নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন এবং আইনি সহায়তার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা কমিটি অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব তালুকদার রুমি।
এ সময় সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস-এর প্রধান সম্পাদক মো. ওমর ফারুক জালাল, দৈনিক ফলাফল-এর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম হিরু, দৈনিক বঙ্গ সংবাদ -এর সম্পাদক ও প্রকাশক ডা. মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান তোফায়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিরাজ হোসেন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান রনি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, দৈনিক নবজীবন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নুরুন্নাহার, মারিয়া ইসলাম, সারহিন আক্তার, দীপা আক্তার এবং কাজী রোকেয়া আক্তার কেয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জেলা কমিটি থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির আহম্মেদ রনি, আরজেএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, বিএনএন নিউজের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যাালি, কেক কাটা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান।
অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য সকাল, দুপুর ও বিকেলের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। বিভিন্ন পর্বে সাংবাদিকদের কল্যাণে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশন আরও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তালাশ টিমের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের বিরুদ্ধে ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ারের সংবাদ সম্মেলন ও তীব্র প্রতিবাদ

মৃত সাংবাদিক পরিবারের হাতে সহায়তার চেক, বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

Update Time : 03:32:09 pm, Thursday, 20 August 2026
137

স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীর তথ্য ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান হাবীব এবং রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুল হক মজু।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমানে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বর্তমান সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে গণমাধ্যম কখনো এতটা স্বাধীনতা ভোগ করেনি।
তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যেন অপসাংবাদিকতা, মিথ্যা সংবাদ কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এ ধরনের অপসংস্কৃতি রোধ করা প্রয়োজন।
রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল কাজ জনগণের সেবা করা। আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে বিগত সময়ে যারা সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে এবং গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সহযোগী হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতেও এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশনের মহতী উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উচিত সাংবাদিকদের সম্মান করা এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতাকে আধুনিক শ্রম ও শিল্প আইনের আওতায় এনে পেশাটিকে একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের মধ্যেও আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো পুরো সাংবাদিক সমাজের মানবিক দায়িত্ব। সাংবাদিকদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় হামলা, হয়রানি, মামলা ও নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন এবং আইনি সহায়তার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা কমিটি অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব তালুকদার রুমি।
এ সময় সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস-এর প্রধান সম্পাদক মো. ওমর ফারুক জালাল, দৈনিক ফলাফল-এর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম হিরু, দৈনিক বঙ্গ সংবাদ -এর সম্পাদক ও প্রকাশক ডা. মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান তোফায়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিরাজ হোসেন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান রনি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, দৈনিক নবজীবন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নুরুন্নাহার, মারিয়া ইসলাম, সারহিন আক্তার, দীপা আক্তার এবং কাজী রোকেয়া আক্তার কেয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জেলা কমিটি থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির আহম্মেদ রনি, আরজেএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, বিএনএন নিউজের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যাালি, কেক কাটা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান।
অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য সকাল, দুপুর ও বিকেলের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। বিভিন্ন পর্বে সাংবাদিকদের কল্যাণে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশন আরও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।