5:06 pm, Saturday, 12 September 2026

পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ, হুমকির অভিযোগ বড় ভাই হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে

122

কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় বড় ভাই হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, মামলা চলাকালে হুমকি দেওয়া এবং বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ করেছেন তার ভাই-বোনেরা।
অভিযোগকারীরা হলেন—শাহরিয়াদ কবির ইমন, হুমায়ারা নাসরিন সুমি, জান্নাতুল হায়াত হোসনা, নাছিমা খানম ও নিলুফা খানম। তারা মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম ও মরহুমা রোকেয়া বেগমের সন্তান। তাদের দাবি, ২০০৬ সালে বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তারা দুই ভাই ও পাঁচ বোন ওয়ারিশ হিসেবে পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার হন। তাদের মধ্যে শাহরিয়াদ কবির ইমন ও হুমায়ারা নাসরিন সুমি তখন নাবালক ছিলেন।
পরিবারের দাবি, মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিমের নামে শাহআমানত হ্যাচারি ও থাই বাংলা হ্যাচারি নামে দুটি স্থাবর সম্পত্তি ছিল। পরবর্তীতে থাই বাংলা হ্যাচারির নাম পরিবর্তন করে শাহজালাল হ্যাচারি করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৫০ গন্ডা বা ৭ দশমিক ৫ কানি। এ সম্পত্তির বিষয়ে মরহুম মোহাম্মদ নাসিমের নামে বিএস খতিয়ান নং ৩৬১২/৩৬৪৮ চূড়ান্তভাবে প্রচারিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
শাহরিয়াদ কবির ইমন, মামলা নং- ১৩১৬/২১। নাসরিন হুমায়রা সুমি, মামলা নং – অপর ৩৭৬/২১। নাসিমা খানম, মামলা নং- অপর ৩৩৪/২১। নিলুফা খানম, মামলা নং – ১৩১৫/২১। জান্নাতুল হায়াত হোসনা, মামলা নং – ২৪/১১। আরেফা খানম, মামলা নং- ২৬/১১- ১৩১৬/২১।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বড় ভাই হুমায়ুন কবির ২০০৮ সালে বিয়ে করার পর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। পরবর্তীতে পৈতৃক সম্পত্তি ভাই-বোনদের মধ্যে বণ্টনের জন্য তারা তাকে অনুরোধ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি বণ্টনের আশ্বাস দেওয়ার পর একপর্যায়ে তাদের জানানো হয়—তাদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই এবং তারা নাকি নিজেদের অংশ হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে দিয়েছেন।
এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। বরং তারা বিভিন্ন সময় হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। পরে বাধ্য হয়ে তারা আদালতের আশ্রয় নেন বলে জানান।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মামলা দায়েরের পরও তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে মামলা চলাকালে তাদের দীর্ঘদিন ঘোরানোর এবং কোনো সম্পত্তি না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হুমায়ুন কবির নিজে মামলায় হাজির না হয়ে সামশুল আলম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করছেন। তবে এ বিষয়ে সামশুল আলম বা হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে হুমায়ুন কবির তার পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছেন। পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তিতে নিজেদের আইনগত অধিকার ফিরে পেতে তারা আদালতের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তারা বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে প্রকৃত ওয়ারিশদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে বারবার কল দিয়েও অঅভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আশুলিয়ায় ‘মমতা স্বেচ্ছায় রক্তদান ফাউন্ডেশন’-এর শুভ উদ্বোধন

পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ, হুমকির অভিযোগ বড় ভাই হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে

Update Time : 04:04:16 pm, Tuesday, 11 August 2026
122

কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় বড় ভাই হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, মামলা চলাকালে হুমকি দেওয়া এবং বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ করেছেন তার ভাই-বোনেরা।
অভিযোগকারীরা হলেন—শাহরিয়াদ কবির ইমন, হুমায়ারা নাসরিন সুমি, জান্নাতুল হায়াত হোসনা, নাছিমা খানম ও নিলুফা খানম। তারা মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম ও মরহুমা রোকেয়া বেগমের সন্তান। তাদের দাবি, ২০০৬ সালে বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তারা দুই ভাই ও পাঁচ বোন ওয়ারিশ হিসেবে পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার হন। তাদের মধ্যে শাহরিয়াদ কবির ইমন ও হুমায়ারা নাসরিন সুমি তখন নাবালক ছিলেন।
পরিবারের দাবি, মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিমের নামে শাহআমানত হ্যাচারি ও থাই বাংলা হ্যাচারি নামে দুটি স্থাবর সম্পত্তি ছিল। পরবর্তীতে থাই বাংলা হ্যাচারির নাম পরিবর্তন করে শাহজালাল হ্যাচারি করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৫০ গন্ডা বা ৭ দশমিক ৫ কানি। এ সম্পত্তির বিষয়ে মরহুম মোহাম্মদ নাসিমের নামে বিএস খতিয়ান নং ৩৬১২/৩৬৪৮ চূড়ান্তভাবে প্রচারিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
শাহরিয়াদ কবির ইমন, মামলা নং- ১৩১৬/২১। নাসরিন হুমায়রা সুমি, মামলা নং – অপর ৩৭৬/২১। নাসিমা খানম, মামলা নং- অপর ৩৩৪/২১। নিলুফা খানম, মামলা নং – ১৩১৫/২১। জান্নাতুল হায়াত হোসনা, মামলা নং – ২৪/১১। আরেফা খানম, মামলা নং- ২৬/১১- ১৩১৬/২১।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বড় ভাই হুমায়ুন কবির ২০০৮ সালে বিয়ে করার পর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। পরবর্তীতে পৈতৃক সম্পত্তি ভাই-বোনদের মধ্যে বণ্টনের জন্য তারা তাকে অনুরোধ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি বণ্টনের আশ্বাস দেওয়ার পর একপর্যায়ে তাদের জানানো হয়—তাদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই এবং তারা নাকি নিজেদের অংশ হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে দিয়েছেন।
এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। বরং তারা বিভিন্ন সময় হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। পরে বাধ্য হয়ে তারা আদালতের আশ্রয় নেন বলে জানান।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মামলা দায়েরের পরও তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে মামলা চলাকালে তাদের দীর্ঘদিন ঘোরানোর এবং কোনো সম্পত্তি না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হুমায়ুন কবির নিজে মামলায় হাজির না হয়ে সামশুল আলম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করছেন। তবে এ বিষয়ে সামশুল আলম বা হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে হুমায়ুন কবির তার পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছেন। পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তিতে নিজেদের আইনগত অধিকার ফিরে পেতে তারা আদালতের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তারা বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে প্রকৃত ওয়ারিশদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে বারবার কল দিয়েও অঅভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।