12:12 pm, Wednesday, 28 October 2026

সুন্দরবনে ২১ জেলে নিখোঁজ, পাঁচ দিনেও মেলেনি সন্ধান-দস্যুদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তে ড্রোনে নজরদারি, উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:33:58 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • 104 Time View

সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ২১ জেলের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি। গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমড়ারিয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকার আশপাশে পৃথক ঘটনায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা কয়েকটি নৌকা ও ট্রলারে হামলা চালিয়ে জেলেদের অপহরণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। পাশাপাশি সম্ভাব্য দস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে বুধবার পর্যন্ত ২১ জেলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে মাছ ধরার সময় কয়েকটি নৌকা ও ট্রলারে হামলা চালায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা। এ সময় জেলেদের জিম্মি করে তাঁদের সঙ্গে থাকা মাছ ধরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়। পরে ২১ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একটি মাছ ধরার ট্রলার ও পাঁচটি মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মালামালও নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো বাহিনীকে এসব ঘটনার জন্য চূড়ান্তভাবে দায়ী করা হয়নি।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দ্রুত তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় মহাজনেরাও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন মহাজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ ও দর-কষাকষির চেষ্টা চলছে। তবে মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত জানাতে চাননি।

এদিকে ২১ জেলের সন্ধান না মেলায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য জেলেদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকা জেলেরা মাছ ধরার সময় বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের টহল আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত জেলেদের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে থাকার পাশাপাশি বন বিভাগের অফিস ও টহল ফাঁড়ির আশপাশে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে নৌপথে তল্লাশির পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ২১ জেলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাঁচ দিন ধরে স্বজনদের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কেশবপুরে দুঃস্থ, অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে বিশেষ অনুদান প্রদান

সুন্দরবনে ২১ জেলে নিখোঁজ, পাঁচ দিনেও মেলেনি সন্ধান-দস্যুদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তে ড্রোনে নজরদারি, উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান

Update Time : 03:33:58 pm, Wednesday, 30 September 2026

সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ২১ জেলের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি। গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমড়ারিয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকার আশপাশে পৃথক ঘটনায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা কয়েকটি নৌকা ও ট্রলারে হামলা চালিয়ে জেলেদের অপহরণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। পাশাপাশি সম্ভাব্য দস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে বুধবার পর্যন্ত ২১ জেলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে মাছ ধরার সময় কয়েকটি নৌকা ও ট্রলারে হামলা চালায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা। এ সময় জেলেদের জিম্মি করে তাঁদের সঙ্গে থাকা মাছ ধরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়। পরে ২১ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একটি মাছ ধরার ট্রলার ও পাঁচটি মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মালামালও নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো বাহিনীকে এসব ঘটনার জন্য চূড়ান্তভাবে দায়ী করা হয়নি।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দ্রুত তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় মহাজনেরাও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। কয়েকজন মহাজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ ও দর-কষাকষির চেষ্টা চলছে। তবে মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত জানাতে চাননি।

এদিকে ২১ জেলের সন্ধান না মেলায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য জেলেদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকা জেলেরা মাছ ধরার সময় বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের টহল আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত জেলেদের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে থাকার পাশাপাশি বন বিভাগের অফিস ও টহল ফাঁড়ির আশপাশে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে নৌপথে তল্লাশির পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ২১ জেলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাঁচ দিন ধরে স্বজনদের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।