10:54 am, Wednesday, 28 October 2026

দুলিপা পারভীন ও হোসাইনের ভিডিও নজরে আসতেই চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

খুলনার কয়রায় অর্থাভাবে চিকিৎসাহীনতায় প্রহর গুনতে থাকা বামিয়া শ্রীফলতলার হারুন সানার স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও শিশুসন্তান হোসাইনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নজরে আসে। তিনি খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে আমাকে ফোনে জানানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আমি প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের তথ্য সংগ্রহ করি। সকাল হতেই মা ও শিশুকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জায়গীরমহল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেডআরএফের সদস্য ডা. এম আর হাসান ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজিবের তত্ত্বাবধানে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মা ও শিশুটির দ্রুত আরোগ্যের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।”

হারুন সানা জানান, তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার বামিয়া শ্রীফলতলায়। অভাব-অনটনের সংসারে চরম আর্থিক সংকটে পড়ায় স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও শিশুসন্তান হোসাইনকে চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারেননি। তাই তারা চরম পুষ্টিহীনতায় দিন পার করছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজিব জানান, “নারী রোগী কিছুটা পুষ্টিহীনতায় দুর্বল। তার যৌনাঙ্গের বাইরে একটি ফোড়া হয়েছিল, যা এখন শুকিয়ে গেছে। শারীরিক পুষ্টির জন্য তাকে মাল্টিভিটামিন, স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আর শিশুটির ১২ দিন আগে চিকেনপক্স হয়েছিল, যার কারণে গায়ে-মুখে সাদা দাগ হয়ে গেছে, যা সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে। তার জন্য হাসপাতাল থেকে F-75 বিশেষ পুষ্টি দুধ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছে।”

জেডআরএফ সদস্য ডা. এম আর হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরই ডা. জুবাইদা রহমান মা ও শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। সেই অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কেশবপুরে দুঃস্থ, অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে বিশেষ অনুদান প্রদান

দুলিপা পারভীন ও হোসাইনের ভিডিও নজরে আসতেই চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

Update Time : 07:56:12 pm, Monday, 21 September 2026

খুলনার কয়রায় অর্থাভাবে চিকিৎসাহীনতায় প্রহর গুনতে থাকা বামিয়া শ্রীফলতলার হারুন সানার স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও শিশুসন্তান হোসাইনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নজরে আসে। তিনি খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে আমাকে ফোনে জানানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আমি প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের তথ্য সংগ্রহ করি। সকাল হতেই মা ও শিশুকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জায়গীরমহল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেডআরএফের সদস্য ডা. এম আর হাসান ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজিবের তত্ত্বাবধানে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মা ও শিশুটির দ্রুত আরোগ্যের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।”

হারুন সানা জানান, তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার বামিয়া শ্রীফলতলায়। অভাব-অনটনের সংসারে চরম আর্থিক সংকটে পড়ায় স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও শিশুসন্তান হোসাইনকে চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারেননি। তাই তারা চরম পুষ্টিহীনতায় দিন পার করছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রেজাউল করিম রাজিব জানান, “নারী রোগী কিছুটা পুষ্টিহীনতায় দুর্বল। তার যৌনাঙ্গের বাইরে একটি ফোড়া হয়েছিল, যা এখন শুকিয়ে গেছে। শারীরিক পুষ্টির জন্য তাকে মাল্টিভিটামিন, স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আর শিশুটির ১২ দিন আগে চিকেনপক্স হয়েছিল, যার কারণে গায়ে-মুখে সাদা দাগ হয়ে গেছে, যা সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে। তার জন্য হাসপাতাল থেকে F-75 বিশেষ পুষ্টি দুধ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছে।”

জেডআরএফ সদস্য ডা. এম আর হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরই ডা. জুবাইদা রহমান মা ও শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। সেই অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া হয়েছে।