1:12 pm, Wednesday, 28 October 2026

গাজীপুর বাসনে অবৈধ চানাচুর কারখানার দাপট: চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী, ধোঁয়া ও ছাইয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

গাজীপুর মহানগরীর বাসন মেট্রো থানার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনা রওশন সড়ক সংলগ্ন বউবাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে বেআইনি ও নোংরা চানাচুর তৈরির কারখানা। ‘বিসমিল্লাহ স্পেশাল চানাচুর’ নামের এই কারখানায় কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দেদারসে চানাচুর তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে যেমন একদিকে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে আবাসিক এলাকায় লাকড়ি পোড়ানোর ধোঁয়া ও ছাইয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘বিসমিল্লাহ চানাচুর’ কারখানাটির মালিক মোহাম্মদ: হেলাল উদ্দিন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কোনো বৈধ অনুমোদন বা আইনি কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশাল চানাচুর কারখানা। কারখানার প্যাকেটে বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্যের (ব্যাচ নং, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, মূল্য) ঘরগুলো খালি রেখে পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে।

সরজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উন্মুক্ত স্থানে খাবার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। চানাচুর তৈরির প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত শ্রমিকদের শরীরে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী নেই। মাক্স, হ্যান্ড গ্লাভস, হেড ক্যাপ বা সানগ্লাসের ব্যবহার তো দূরের কথা, কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

আবাসিক এলাকায় কারখানাটি হওয়ায় এবং জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণে কাঠ ব্যবহার করায় চারদিকে তীব্র ধোঁয়া ও কালি ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আশপাশের বাসা-বাড়ির বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বাসাবাড়িতে কাপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে দিলে কারখানা থেকে উড়ে আসা ছাই ও কালিতে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। দিনের পর দিন এমন দুর্ভোগ সহ্য করতে করতে এলাকাবাসী এখন অতিষ্ঠ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জায়গা ও কারখানার মালিক অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আইন-কানুন ও স্থানীয়দের তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানে অভিযান চালাতে আসলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের ‘ম্যানেজ’ করে কারখানা চালু রাখা হয়েছে।

আবাসিক এলাকা থেকে অনতিবিলম্বে এই অবৈধ ও দূষণকারী চানাচুর কারখানা বন্ধ করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। একই সাথে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কেশবপুরে দুঃস্থ, অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে বিশেষ অনুদান প্রদান

গাজীপুর বাসনে অবৈধ চানাচুর কারখানার দাপট: চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী, ধোঁয়া ও ছাইয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

Update Time : 12:44:19 pm, Sunday, 4 October 2026

গাজীপুর মহানগরীর বাসন মেট্রো থানার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনা রওশন সড়ক সংলগ্ন বউবাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে বেআইনি ও নোংরা চানাচুর তৈরির কারখানা। ‘বিসমিল্লাহ স্পেশাল চানাচুর’ নামের এই কারখানায় কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দেদারসে চানাচুর তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে যেমন একদিকে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে আবাসিক এলাকায় লাকড়ি পোড়ানোর ধোঁয়া ও ছাইয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘বিসমিল্লাহ চানাচুর’ কারখানাটির মালিক মোহাম্মদ: হেলাল উদ্দিন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কোনো বৈধ অনুমোদন বা আইনি কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশাল চানাচুর কারখানা। কারখানার প্যাকেটে বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্যের (ব্যাচ নং, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, মূল্য) ঘরগুলো খালি রেখে পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে।

সরজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উন্মুক্ত স্থানে খাবার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। চানাচুর তৈরির প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত শ্রমিকদের শরীরে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী নেই। মাক্স, হ্যান্ড গ্লাভস, হেড ক্যাপ বা সানগ্লাসের ব্যবহার তো দূরের কথা, কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।

আবাসিক এলাকায় কারখানাটি হওয়ায় এবং জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণে কাঠ ব্যবহার করায় চারদিকে তীব্র ধোঁয়া ও কালি ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আশপাশের বাসা-বাড়ির বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বাসাবাড়িতে কাপড় ধুয়ে রোদে শুকাতে দিলে কারখানা থেকে উড়ে আসা ছাই ও কালিতে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। দিনের পর দিন এমন দুর্ভোগ সহ্য করতে করতে এলাকাবাসী এখন অতিষ্ঠ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জায়গা ও কারখানার মালিক অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আইন-কানুন ও স্থানীয়দের তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানে অভিযান চালাতে আসলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের ‘ম্যানেজ’ করে কারখানা চালু রাখা হয়েছে।

আবাসিক এলাকা থেকে অনতিবিলম্বে এই অবৈধ ও দূষণকারী চানাচুর কারখানা বন্ধ করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। একই সাথে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।