12:50 am, Monday, 26 October 2026

আশুলিয়ার শ্রীপুরে সরকারি ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ: অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে পাইকারি কাপড়ের মার্কেট, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও পথচারী

ঢাকার আশুলিয়ার শ্রীপুরে সরকারি ফুটপাত দখল করে ঝুপড়ি ঘর তৈরি এবং সেখান থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মামুন ও জসিম নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাদের এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘শ্রীপুর বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের মার্কেট’ ঢাকা পড়ে গেছে অন্ধকারে, যার ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৈধ মার্কেটের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ফুটপাত দখল মুক্ত রেখে এবং যাতায়াতের পথ সুগম রাখতে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঝুপড়ি ঘর না তুলে মাটিতে বা চটে বসে ব্যবসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মামুন ও জসিম নামের দুই ব্যক্তি সেই নির্দেশনা অমান্য করে জবরদস্তিমূলকভাবে রাস্তার ওপর একের পর এক অবৈধ ঝুপড়ি ঘর তুলে দেয়। এই ঝুপড়ি ঘরগুলোর কারণে মূল রাস্তার পাশ থেকে পাইকারি কাপড়ের মার্কেটটি আর পথচারী বা ক্রেতাদের চোখে পড়ে না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা সরাসরি মার্কেটে ঢুকতে পারছেন না এবং মূল মার্কেটের কেনাবেচা প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

চাঁদাবাজির মহোৎসব ও নেপথ্যের সিন্ডিকেট: অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ঝুপড়ি ঘর থেকে মামুন ও জসিম প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকা চাঁদা আদায় করে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে বাধ্য হন, কারণ টাকা না দিলে তাদের ব্যবসা করতে দেওয়া হয় না বা তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধান চালাতে ঘটনাস্থলে গেলে মামুন ও জসিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কে এই মামুন ও জসিম? কী তাদের প্রকৃত পরিচয়? কার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে তারা সরকারি রাস্তা দখল করে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দেদারসে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে? সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ধারণা, তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কলকাঠি নাড়ছে।
শ্রীপুর পাইকারি কাপড়ের মার্কেট মালিক সমিতির সদস্যরা জানান, অবৈধ এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গেলে মামুন ও জসিম বৈধ মার্কেট মালিক ও ব্যবসায়ীদের উল্টো নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। বর্তমানে বাজারের কাস্টমার না থাকায় এবং মূল ব্যবসা ধসে পড়ায় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা মানবিক সংকটে পড়েছেন।
শ্রীপুর বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের দোকান মালিক সমিতির সকল সদস্য, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় সাধারণ পথচারীরা দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা ও ঝুপড়ি ঘরগুলো উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে জনগণের চলাচলের পথ সুগম করা এবং মামুন-জসিমসহ তাদের পেছনের গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঈশ্বরদীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা

আশুলিয়ার শ্রীপুরে সরকারি ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ: অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে পাইকারি কাপড়ের মার্কেট, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও পথচারী

Update Time : 12:17:42 pm, Tuesday, 20 October 2026

ঢাকার আশুলিয়ার শ্রীপুরে সরকারি ফুটপাত দখল করে ঝুপড়ি ঘর তৈরি এবং সেখান থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মামুন ও জসিম নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাদের এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘শ্রীপুর বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের মার্কেট’ ঢাকা পড়ে গেছে অন্ধকারে, যার ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৈধ মার্কেটের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ফুটপাত দখল মুক্ত রেখে এবং যাতায়াতের পথ সুগম রাখতে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঝুপড়ি ঘর না তুলে মাটিতে বা চটে বসে ব্যবসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মামুন ও জসিম নামের দুই ব্যক্তি সেই নির্দেশনা অমান্য করে জবরদস্তিমূলকভাবে রাস্তার ওপর একের পর এক অবৈধ ঝুপড়ি ঘর তুলে দেয়। এই ঝুপড়ি ঘরগুলোর কারণে মূল রাস্তার পাশ থেকে পাইকারি কাপড়ের মার্কেটটি আর পথচারী বা ক্রেতাদের চোখে পড়ে না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা সরাসরি মার্কেটে ঢুকতে পারছেন না এবং মূল মার্কেটের কেনাবেচা প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

চাঁদাবাজির মহোৎসব ও নেপথ্যের সিন্ডিকেট: অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ঝুপড়ি ঘর থেকে মামুন ও জসিম প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকা চাঁদা আদায় করে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে বাধ্য হন, কারণ টাকা না দিলে তাদের ব্যবসা করতে দেওয়া হয় না বা তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধান চালাতে ঘটনাস্থলে গেলে মামুন ও জসিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কে এই মামুন ও জসিম? কী তাদের প্রকৃত পরিচয়? কার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে তারা সরকারি রাস্তা দখল করে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দেদারসে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে? সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের ধারণা, তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কলকাঠি নাড়ছে।
শ্রীপুর পাইকারি কাপড়ের মার্কেট মালিক সমিতির সদস্যরা জানান, অবৈধ এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গেলে মামুন ও জসিম বৈধ মার্কেট মালিক ও ব্যবসায়ীদের উল্টো নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। বর্তমানে বাজারের কাস্টমার না থাকায় এবং মূল ব্যবসা ধসে পড়ায় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা মানবিক সংকটে পড়েছেন।
শ্রীপুর বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের দোকান মালিক সমিতির সকল সদস্য, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় সাধারণ পথচারীরা দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা ও ঝুপড়ি ঘরগুলো উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে জনগণের চলাচলের পথ সুগম করা এবং মামুন-জসিমসহ তাদের পেছনের গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।