3:33 am, Tuesday, 2 June 2026

প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল— দুয়ারীপাড়ায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের ঝড়

123

রাজধানীর মিরপুরের দুয়ারীপাড়া, মরুল ও বাউনিয়া মৌজায় অবস্থিত আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফা এস্টেটের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি জবরদখল, অবৈধ নির্মাণ এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, ভূমিদস্যু চক্র ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফা সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চলছে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোবারক হোসেন মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা অভিযোগ করেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের স্পষ্ট স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ, প্লট হস্তান্তর এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।বক্তারা জানান, ওয়াকফা এস্টেটের অফিসিয়াল মোতায়ওয়ালি আব্দুল কালাম আনসারী (জামাল) ২০২১ সালে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-১৫২১/২০২১ দায়ের করেন। মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে বিবাদী করা হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর মহামান্য আপিল বিভাগ মামলাধীন সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। ওই আদেশ এখনো কার্যকর রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি জেনেও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা বিতর্কিত ভূমিতে অবকাঠামো নির্মাণ, প্লট বরাদ্দ ও দখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওয়াকফা এস্টেটের খালি জমি রাতের আঁধারে দখল করে সেখানে বাড়ি ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্লট বিক্রি ও হস্তান্তরের চেষ্টাও চালাচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা। এতে করে প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, মামলার ৪ নম্বর বিবাদী রাজউক কর্তৃপক্ষও বিতর্কিত জমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রদান করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন কার্যক্রমকে তারা ,রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা, বলে উল্লেখ করেন।তারা আরও দাবি করেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর জোন হাউজিং সেকশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে এখনও ওই জমিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করা হয়।এ ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগে কন্টেম্পট পিটিশন নং-৬২/২০২৪ দায়ের করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২২ জুন ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ওয়াকফা সম্পত্তি মূলত জনকল্যাণমূলক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নিবেদিত সম্পদ। এই ধরনের সম্পত্তি দখল ও অবৈধভাবে ব্যবহার শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় একটি চক্র আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।তারা অবিলম্বে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ, জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফটিকছড়ি নাজিরহাট পৌরসভার সম্পত্তির বিরোধে হামলা ও ভাঙচুর, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল— দুয়ারীপাড়ায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের ঝড়

Update Time : 07:37:13 am, Friday, 15 May 2026
123

রাজধানীর মিরপুরের দুয়ারীপাড়া, মরুল ও বাউনিয়া মৌজায় অবস্থিত আইন উদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফা এস্টেটের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি জবরদখল, অবৈধ নির্মাণ এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, ভূমিদস্যু চক্র ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফা সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চলছে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোবারক হোসেন মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা অভিযোগ করেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের স্পষ্ট স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ, প্লট হস্তান্তর এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।বক্তারা জানান, ওয়াকফা এস্টেটের অফিসিয়াল মোতায়ওয়ালি আব্দুল কালাম আনসারী (জামাল) ২০২১ সালে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-১৫২১/২০২১ দায়ের করেন। মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে বিবাদী করা হয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর মহামান্য আপিল বিভাগ মামলাধীন সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। ওই আদেশ এখনো কার্যকর রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি জেনেও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা বিতর্কিত ভূমিতে অবকাঠামো নির্মাণ, প্লট বরাদ্দ ও দখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওয়াকফা এস্টেটের খালি জমি রাতের আঁধারে দখল করে সেখানে বাড়ি ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্লট বিক্রি ও হস্তান্তরের চেষ্টাও চালাচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা। এতে করে প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ওয়াকফা এস্টেটের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, মামলার ৪ নম্বর বিবাদী রাজউক কর্তৃপক্ষও বিতর্কিত জমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রদান করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন কার্যক্রমকে তারা ,রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা, বলে উল্লেখ করেন।তারা আরও দাবি করেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর জোন হাউজিং সেকশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে এখনও ওই জমিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করা হয়।এ ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগে কন্টেম্পট পিটিশন নং-৬২/২০২৪ দায়ের করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২২ জুন ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ওয়াকফা সম্পত্তি মূলত জনকল্যাণমূলক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নিবেদিত সম্পদ। এই ধরনের সম্পত্তি দখল ও অবৈধভাবে ব্যবহার শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় একটি চক্র আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।তারা অবিলম্বে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ, জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।