5:33 pm, Wednesday, 28 October 2026

কবিরপুরে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ‘ডাকাত’ সন্দেহে যুবকদের মারধর, ঘটনাস্থলে পুলিশ—তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর

ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন ১ নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে একদল যুবককে ‘ডাকাত’ সন্দেহে আটক ও মারধরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে কয়েকজনকে কবিরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরপুর গ্রামের মো. ঝুমুর হোসেনের বাড়িতে বহিরাগত ১০ থেকে ১২ জন যুবক অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত এসেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সবাইকে ডাকাত প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়। খবর পেয়ে কবিরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন ওই যুবকদের কয়েকজনকে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কবিরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটির পেছনে দীর্ঘদিনের একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন-চার বছর আগে লাবনী নামের এক নারীকে মো. ঝুমুর হোসেনের দেখাশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিনিময়ে ঝুমুর হোসেনের মালিকানাধীন জমি থেকে ১০ শতাংশ জমি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই দাবির ভিত্তিতে লাবনী সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করে এক ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মুক্তা আক্তার নামের এক নারী একই জমির মালিকানা দাবি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার রাতে মুক্তা আক্তারের পক্ষ থেকে লোকজন জড়ো হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে লাবনী আক্তারের ছেলে-মেয়েদের বন্ধুদের কয়েকজনকে ওই বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার মধ্যে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ‘ডাকাত’ সন্দেহে কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করা এবং কাউকে আটকে রাখার অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিকানা, ঘটনার সূত্রপাত, মাইকিংয়ের কারণ এবং রাতে ওই ব্যক্তিদের সেখানে অবস্থানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের গণপিটুনি, জিম্মি করে রাখা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কেশবপুরে দুঃস্থ, অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে বিশেষ অনুদান প্রদান

কবিরপুরে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ‘ডাকাত’ সন্দেহে যুবকদের মারধর, ঘটনাস্থলে পুলিশ—তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর

Update Time : 08:24:58 pm, Thursday, 24 September 2026

ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন ১ নম্বর শিমুলিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে একদল যুবককে ‘ডাকাত’ সন্দেহে আটক ও মারধরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে কয়েকজনকে কবিরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরপুর গ্রামের মো. ঝুমুর হোসেনের বাড়িতে বহিরাগত ১০ থেকে ১২ জন যুবক অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত এসেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সবাইকে ডাকাত প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়। খবর পেয়ে কবিরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন ওই যুবকদের কয়েকজনকে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কবিরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটির পেছনে দীর্ঘদিনের একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন-চার বছর আগে লাবনী নামের এক নারীকে মো. ঝুমুর হোসেনের দেখাশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিনিময়ে ঝুমুর হোসেনের মালিকানাধীন জমি থেকে ১০ শতাংশ জমি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই দাবির ভিত্তিতে লাবনী সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করে এক ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মুক্তা আক্তার নামের এক নারী একই জমির মালিকানা দাবি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার রাতে মুক্তা আক্তারের পক্ষ থেকে লোকজন জড়ো হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে লাবনী আক্তারের ছেলে-মেয়েদের বন্ধুদের কয়েকজনকে ওই বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার মধ্যে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ‘ডাকাত’ সন্দেহে কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করা এবং কাউকে আটকে রাখার অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিকানা, ঘটনার সূত্রপাত, মাইকিংয়ের কারণ এবং রাতে ওই ব্যক্তিদের সেখানে অবস্থানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের গণপিটুনি, জিম্মি করে রাখা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।