
রাত ১১টার দিকে তেল নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে। পরে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানির দাম পরিবর্তনের পর প্রতিবাদ করায় ফিলিং স্টেশনের মালিকের বিরুদ্ধে ভোক্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ মাহাবুর রহমান ও আব্দুল কাদের নামে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে। ভুক্তভোগী মোঃ মাহাবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজের গাড়ির জন্য তেল নিতে তিনি ওই ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, অফিস কক্ষে বাল্ব ও ফ্যান চালু থাকলেও পাম্পের আশপাশের অধিকাংশ লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ সময় সেখানে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল অবস্থান করছিল বলে দাবি করেন তিনি। তেল নিতে আসা কয়েকজন ভোক্তা কর্মীদের কাছে জানতে চাইলে কেউ বলেন তেল শেষ হয়ে গেছে, কেউ বলেন লাইট নষ্ট, আবার কেউ দাবি করেন—মালিক তেল দিতে নিষেধ করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০ সেপ্টম্বর রাত ১২টার আগে তেল না দেওয়ার বিষয়ে উপস্থিত ভোক্তারা প্রশ্ন তুললে পাম্পের লোকজন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে ফিলিং স্টেশনের মালিক শাহ আলম সেখানে আসেন। তখন উপস্থিত ভোক্তারা রাত ১১টার দিকে তেল না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মাহাবুর রহমান।
একপর্যায়ে রাত ১২টার পর নতুন নির্ধারিত দামে তেল বিক্রির জন্য মেশিনে মূল্য পরিবর্তন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ভোক্তারা আগের সময় তেল না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী মাহাবুর রহমানের অভিযোগ, একপর্যায়ে পাম্পের মালিক শাহ আলম ভেতর থেকে বড় ও মোটা একটি লোহার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে উপস্থিত লোকজনের ওপর হামলা করেন। এতে মাহাবুর রহমান ও আব্দুল কাদের আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং হামলার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারের মালিক শাহ আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদে তা সংযোজন করা হবে।
এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা কী ছিল এবং জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখার পেছনে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোক্তারা।
মোঃ মহিবুল ইসলাম ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি 






















