
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন ডেঙ্গু রোগী। ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৫ জনে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৫ হাজারের ঘর।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগী নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৬০ হাজার ৫৬০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫৯ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৯১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় একদিনেই ৩৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৩৯১ জন, খুলনা বিভাগে ৩১৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৫ জন, রংপুর বিভাগে ৬৭ জন, সিলেট বিভাগে ৬ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১৬২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে এ বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৯১ জন। এরপর খুলনা বিভাগে ৩১৬ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগে ১৯০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৫ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিলেট বিভাগে নতুন করে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ৪৭৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৬০ জন।
তবে নতুন করে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা নতুন করে বেড়েছে।
একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চলতি বছর মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯৯ জনে।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ায়। নগর ও গ্রামাঞ্চলে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। ফলে বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, টব, ডাবের খোসা কিংবা বিভিন্ন ধরনের পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করার বিষয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনের হিসাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























