
ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়নের টেঙ্গুরী কোনাপাড়া এলাকায় মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এক মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিমুলিয়া ইউনিয়নের পরিচিত মুখ ও আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব আলহাজ্ব আব্দুল মালেক। তিনি তাঁর বক্তব্যে মাদক ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ইভটিজিং প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আব্দুল মালেক বলেন, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে এবং তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
এ সময় তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে একটি খেলার মাঠ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর মতে, খেলার মাঠ ও সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা থাকলে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি জনাব মোঃ কফিল উদ্দিন, জনাব মোঃ মান্নান হোসেন, মোহাম্মদ হাকিম, হাজী মোহাম্মদ ওসমান গনি, জনাব মোঃ হারুন অর রশিদসহ এলাকার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মোঃ আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন। তিনি মাদক প্রতিরোধে প্রথমে নিজেদের সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার ও সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ইভটিজিংসহ যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
আলোচনা সভায় মাদককে ‘না’ বলার পাশাপাশি শিমুলিয়া ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বক্তাদের অভিমত, সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ, পারিবারিক সচেতনতা এবং তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার শাহাদাত হোসেন। আশুলিয়া 





















