12:49 am, Monday, 26 October 2026

জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় রাস্তার বেহাল দশা, আজিজুল বারী হেলাল এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

খুলনার রূপসা উপজেলার ২ নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নন্দনপুর এলাকার বিএনপি রোড নামে পরিচিত সোবানের মোড় থেকে জামান কাজীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা। এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র এই রাস্তাটি এখন তাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোবানের মোড় থেকে জলিলের বাড়ি হয়ে জামান কাজীর বাড়ি পর্যন্ত, জলিলের বাড়ি থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত এবং খানজাহান আলী রোড থেকে আশরাফের গ্যারেজ হয়ে কালাইয়ের দোকান পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন। রাস্তার মাঝখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার হাজারো কোমলমতি শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটি ভ্যান চলাচলের মতো অবস্থাও নেই। এমনকি কেউ মারা গেলে খাটিয়া নিয়ে যাওয়ার মতো জায়গাও অবশিষ্ট নেই।
এ বিষয়ে ২ নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউল বিশ্বাসকে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি একবার ও এলাকাটি পরিদর্শন করেননি। একই অভিযোগ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের বিরুদ্ধেও।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা ৪ আসনে এমপি আজিজুল বারী হেলালের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের ভাষ্য, “আমাদের এই দুঃখ দেখার কেউ নেই। হেলাল ভাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কার করে দিলে এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ উপকৃত হবে।”
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ২ নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউল বিশ্বাস ফোন রিসিভ করেননি।
মহিলা মেম্বার শিরিন আক্তার বলেন, “আমরা প্রজেক্ট জমা দিয়েছিলাম, কাজও এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক সরদার রাস্তাটি অন্য দিকে নিয়ে যান।”
এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক সরদারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ভোট চাইতে এসে তিনি নিজেই বলেছিলেন ‘এটা বিএনপি রোড, আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে এটা হবে না’। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ইসহাক সরদারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রাস্তাটি পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঈশ্বরদীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা

জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় রাস্তার বেহাল দশা, আজিজুল বারী হেলাল এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

Update Time : 07:52:52 am, Sunday, 27 September 2026

খুলনার রূপসা উপজেলার ২ নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নন্দনপুর এলাকার বিএনপি রোড নামে পরিচিত সোবানের মোড় থেকে জামান কাজীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা। এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র এই রাস্তাটি এখন তাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোবানের মোড় থেকে জলিলের বাড়ি হয়ে জামান কাজীর বাড়ি পর্যন্ত, জলিলের বাড়ি থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত এবং খানজাহান আলী রোড থেকে আশরাফের গ্যারেজ হয়ে কালাইয়ের দোকান পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন। রাস্তার মাঝখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার হাজারো কোমলমতি শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটি ভ্যান চলাচলের মতো অবস্থাও নেই। এমনকি কেউ মারা গেলে খাটিয়া নিয়ে যাওয়ার মতো জায়গাও অবশিষ্ট নেই।
এ বিষয়ে ২ নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউল বিশ্বাসকে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি একবার ও এলাকাটি পরিদর্শন করেননি। একই অভিযোগ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের বিরুদ্ধেও।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা ৪ আসনে এমপি আজিজুল বারী হেলালের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের ভাষ্য, “আমাদের এই দুঃখ দেখার কেউ নেই। হেলাল ভাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কার করে দিলে এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ উপকৃত হবে।”
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ২ নং শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউল বিশ্বাস ফোন রিসিভ করেননি।
মহিলা মেম্বার শিরিন আক্তার বলেন, “আমরা প্রজেক্ট জমা দিয়েছিলাম, কাজও এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক সরদার রাস্তাটি অন্য দিকে নিয়ে যান।”
এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক সরদারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ভোট চাইতে এসে তিনি নিজেই বলেছিলেন ‘এটা বিএনপি রোড, আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে এটা হবে না’। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ইসহাক সরদারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রাস্তাটি পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।