মুক্তিযোদ্ধা জলিল সিকদার ওরফে আবদুল জলিল সিকদারের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে যথাযথ নয় বলে রায় দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। একই সঙ্গে তাঁর আইনগত উত্তরাধিকারীদের আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হলেও রায়ের পরও বকেয়া ও নিয়মিত ভাতা চালু না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ আবদুল আওয়াল ও বিচারপতি এস. এম. ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিট পিটিশন নং ৮২০৪/২০২৩-এর শুনানি শেষে গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ এ রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, জলিল সিকদার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির পক্ষে বিভিন্ন সরকারি সনদ ও নথি রয়েছে। আদালতের নথিতে তাঁর নাম ‘লাল মুক্তিবার্তা’য় প্রকাশিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ২০০৯ সালের জুলাই থেকে রাষ্ট্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পেয়ে আসছিলেন।
তবে ২০১৭ সালে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাঁর সম্মানী ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পিতার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হালিম সিকদার ওরফে আবদুল হালিম ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কাছে আপিল করেন। আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
মামলার শুনানি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট রুলটি অ্যাবসলিউট (চূড়ান্তভাবে মঞ্জুর) করেন এবং মৃত মুক্তিযোদ্ধা জলিল সিকদার ওরফে আবদুল জলিল সিকদারের আইনগত উত্তরাধিকারীদের আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
তবে রায়ের পরও এখন পর্যন্ত তাঁদের বকেয়া সম্মানী ভাতা এবং নিয়মিত মাসিক ভাতা চালু হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হাইকোর্টের রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এলাকার কিছু রাজনীতিবিদের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করে মামলা করি। মহামান্য হাইকোর্ট সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু রায়ের পরও ভাতা চালু হয়নি। আমরা অসহায় একটি পরিবার। আমার বৃদ্ধ মা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”
পরিবারটি হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করে বকেয়া সম্মানী ভাতা পরিশোধ এবং নিয়মিত মাসিক ভাতা চালুর জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নাসির উদ্দিন সিকদার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ ফজলুল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : লোকমান হোসেন
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আল মাহমুদ
মফস্বল সম্পাদক : তাহমিনা সুলতানা
প্রধান কার্যালয় : ৮৪/৬ নয়া পল্টন ১০০০
Email:sobujbiplob625@gmail.com
দুঃখিত আপনি এই সাইট থেকে কন্টেন কপি করতে পারবেন না। দৈনিক সবুজ বিপ্লব ওয়েব সাইট থেকে কন্টেন কপি করা আইনানুক অপরাধ। ধন্যবাদ