ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম খানকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন ও অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে মাঠে নেমেছে একদল শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের দাবি জানায়।
গত ১২ অক্টোবর দশম শ্রেণির কযেকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে দশম শ্রেণির ক্লাস নেওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন ও অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী মেহজাবিন, তাথই ও সেফা আক্তার বক্তব্য দেয়। তারা অভিযোগকে বানোয়াট, মিথ্যা, ভিত্তিহীন, দাবি করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়। প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক তাদের নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করেন। তাদের কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখা একজন অভিভাবক।
প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, গত ১৬সেপ্টেম্বর যোগদানের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, মূল পাঠ্যবই অনুসরণ, নিজস্ব প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছেন। তার দাবি, আগে নিয়মিত ক্লাস হতো না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল কম। দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঠদান ও উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগে বিদ্যালয়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। তিনি বিদ্যালয়টিকে কেবল একটি ভবন নয়, বরং জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি ‘শিক্ষার বাগান’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের অনিয়ম দূর করাই তার লক্ষ্য। তবে এসব উদ্যোগে অসন্তুষ্ট কিছু শিক্ষক তার বিরুদ্ধে পরিস্থিতি তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, যোগদানের পরও বিদ্যালয়ের দায়িত্ব, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বুঝে পাননি।
প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি এ ধরনের অনিয়ম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন আমি বরিশাল থেকে স্কুলে আসা যাওয়া করি পথে আমার নিরাপদ নয়। অপরিচিত বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা সাংবাদিকদের জানান।
এ বিষয়ে রাজাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং মীমাংসার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নাসির উদ্দিন সিকদার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ ফজলুল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : লোকমান হোসেন
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আল মাহমুদ
মফস্বল সম্পাদক : তাহমিনা সুলতানা
প্রধান কার্যালয় : ৮৪/৬ নয়া পল্টন ১০০০
Email:sobujbiplob625@gmail.com
দুঃখিত আপনি এই সাইট থেকে কন্টেন কপি করতে পারবেন না। দৈনিক সবুজ বিপ্লব ওয়েব সাইট থেকে কন্টেন কপি করা আইনানুক অপরাধ। ধন্যবাদ