পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা কথিত মাদক সম্রাট ফজলুল করিম মিঠু মিয়াকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক বনে যাওয়া এই ব্যক্তি এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এলাকাবাসীর দাবি, ফজলুল করিম মিঠু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার প্রভাবে এলাকার যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। অভিযোগ রয়েছে, মাদকের টাকার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।গৌরীপুর ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকরা বলেন,“যারা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, তাদের জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার উত্তরা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খিলগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মো. ফজলুল করিম (মিঠু), তার স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং তার মেঝ ভাই এনায়েত করিম লিটুর স্ত্রী নাসিমা আক্তারের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অ্যাম্পুল ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।মামলার এজাহার অনুযায়ী, শারমিন আক্তারের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নাসিমা আক্তারের ব্যাগ থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা ও ১ হাজার ৩০০ অ্যাম্পুল লুপিজেসিক ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও উদ্ধার করা হয় নগদ ২২ হাজার ৫০০ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন। অভিযানের সময় ফজলুল করিম মিঠু পালিয়ে গেলেও দুই নারীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। মামলায় মিঠুকে ১ নম্বর আসামি ও পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।স্থানীয়দের ভাষ্য, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা মিঠু অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। তার নামে-বেনামে প্রায় ৫০ বিঘার বেশি জমি, ডুপ্লেক্স বাড়ি ও একাধিক প্রাইভেটকার রয়েছে বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করতে তিনি এলাকায় মসজিদ-মন্দিরে অনুদান ও গরিবদের মাঝে দান-সদকা করে নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।এদিকে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তাকে ঘিরে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে “মাদক মামলার পলাতক আসামির শোডাউন” শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার উত্তরা থানার মাদক মামলার প্রধান আসামি হয়েও তিনি নিজ এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন। একই বছরে “ভান্ডারিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীর ত্রাণ বিতরণের অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে অভিযোগ ওঠে, নিজ এলাকায় প্রভাব বিস্তারে তিনি ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে সমাজ আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে।তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযুক্ত ফজলুল করিম মিঠুর বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নাসির উদ্দিন সিকদার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ ফজলুল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : লোকমান হোসেন
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আল মাহমুদ
মফস্বল সম্পাদক : তাহমিনা সুলতানা
প্রধান কার্যালয় : ৮৪/৬ নয়া পল্টন ১০০০
Email:sobujbiplob625@gmail.com
phone:০১৯১১-১৪২০৯১
দুঃখিত আপনি এই সাইট থেকে কন্টেন কপি করতে পারবেন না। দৈনিক সবুজ বিপ্লব ওয়েব সাইট থেকে কন্টেন কপি করা আইনানুক অপরাধ। ধন্যবাদ