
ঝালকাঠি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার সদর উপজেলা, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ায় এবার অর্ধশতাধিক স্থানে বসেছে পশুর হাট। হাট-বাজারগুলোতে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে জেলার বিভিন্ন হাটে গবাদিপশু আসতে শুরু করলেও প্রথম কয়েকদিন বেচাকেনা কিছুটা কম ছিল। তবে গত রবিবার থেকে হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও বেচাকেনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পশু কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে হাটের প্রাণচাঞ্চল্য।
জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসেছে ঝালকাঠির সুগন্ধিয়া, জেলা শহরের গুরুধাম, বিকনা, গাবখান, বাউকাঠি, নলছিটির চায়না মাঠ ও রাজাপুরের বাঘরি এলাকায়। এসব হাটে পর্যাপ্ত গরু, ছাগল ও মহিষ নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। বাজারগুলোতে স্থানীয় খামারিদের বিষমুক্ত পশুর সমাহার দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, ভাতের মাড়, খৈল, ভুসি, খড়কুটা ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। অনেকেই শেষ মুহূর্তের ভিড় ও অতিরিক্ত দাম এড়াতে আগেভাগেই পশু কিনে রাখছেন। বিশেষ করে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা এবার তুলনামূলক বেশি।
ঝালকাঠি পৌর এলাকার এক হাটে কথা হয় খামারি মো. বাদশা হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি জানান, গত কয়েক মাসে গো-খাদ্য, ভুসি, খৈল ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তাই একটু বেশি দামে বিক্রি না করলে তাদের লোকসান গুনতে হবে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর দামও চড়া হাঁকা হচ্ছে। সদর উপজেলার বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন,
"একটি ভালো মানের গরু কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম চাইছেন। তারপরও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের জন্য কিনতেই হবে।"
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ২৩৪টি। এর বিপরীতে খামারিদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে ৩০ হাজার ৫৮৮টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৩৫৪টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলায় মোট খামারের সংখ্যা ১ হাজার ৫৩৫টি, যার মধ্যে ৯৬৩টি নিবন্ধিত এবং ৫৭২টি অনিবন্ধিত।
প্রস্তুত থাকা পশুদের মধ্যে রয়েছে ৯ হাজার ৮০৮টি ষাঁড়, ৮ হাজার ৮৭০টি বলদ, ১ হাজার ৭৭৪টি গাভি, ১৩৭টি মহিষ, ৯ হাজার ৯৬৫টি ছাগল এবং ৩২টি ভেড়া।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নীরোদ বরণ জয়ধর বলেন,
"ঝালকাঠিতে দেশি গরু পালনে এক নীরব বিপ্লব ঘটেছে। খামারিরা বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক উপায়ে পশু হৃষ্টপুষ্ট করেছেন। কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাঠে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে।"
এদিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধিয়া বাজারে কোরবানির পশু বেচাকেনা শেষে অতিরিক্ত ইজারা (খাজনা) আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের দাবি, সরকার প্রতিটি গরুর জন্য ১০০ টাকা ইজারা নির্ধারণ করলেও ইজারাদাররা জোরপূর্বক ৫০০ টাকা করে আদায় করছেন।
খামারি ও ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, বাড়তি টোল আদায়ের পাশাপাশি গরু বাঁধার 'আড়াইলা' বাবদ ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাজারের ভেতরের বাগানের গাছের সঙ্গে গরু বাঁধলেও টাকা দিতে হচ্ছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইজারাদার শাহাদাত হোসেন অপুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা জোরদার
পশুর হাটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হাট এলাকায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খামারি ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ তিনদিনে বেচাকেনা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নাসির উদ্দিন সিকদার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ ফজলুল হক
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : লোকমান হোসেন
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আল মাহমুদ
মফস্বল সম্পাদক : তাহমিনা সুলতানা
প্রধান কার্যালয় : ৮৪/৬ নয়া পল্টন ১০০০
Email:sobujbiplob625@gmail.com
দুঃখিত আপনি এই সাইট থেকে কন্টেন কপি করতে পারবেন না। দৈনিক সবুজ বিপ্লব ওয়েব সাইট থেকে কন্টেন কপি করা আইনানুক অপরাধ। ধন্যবাদ